চট্টগ্রামেও চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭     আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৭

স্বপন কুমার মলি্লক, চট্টগ্রাম ব্যুরো


রাজধানী ঢাকায় এখন চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক, যা চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে কারও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ রোগের আতঙ্ক দূর করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দুই মাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে। এদিকে পুরো চট্টগ্রামেই চলছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় ও বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত তিন মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০৩। অথচ এ ব্যাপারে তেমন মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট মহলের। সবার তৎপরতা চিকুনগুনিয়া নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী সমকালকে জানান, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে একজনও চিকুনগুনিয়ার রোগী শনাক্ত হয়নি। তাই বলে এটিকে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। এ জন্য আমরা চট্টগ্রাম নগরীসহ ১৪ উপজেলায় চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। তবে ডেঙ্গুর ব্যাপারে যে আমরা অসচেতন- এটাও বলা যাবে না। ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে এবং তা দু'দিনের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাড়ির আশপাশে মশা জন্মাতে পারে- এমন সব স্থানে যাতে তিন দিনের বেশি সময় ধরে পানি জমে না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধেও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। এ নিয়ে চমেকের সিনিয়র চিকিৎসক অধ্যাপক অশোক কুমার দত্তের নেতৃত্বে বিশেষ টিম কাজ করছে। দুটি রোগের লক্ষণ প্রায় এক রকম হলেও অমরা উভয় রোগ সম্পর্কে সর্তক রয়েছি।

চিকুনগুনিয়া প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, সম্প্র্রতি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার পর জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীদের সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের প্রধান প্রফেসর

ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, গত কয়েক মাসে এ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে গেছেন। এ ছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আমরা সতর্ক পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

এদিকে চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী জানান, আগামী সোমবার থেকে দুই মাসের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে। প্রয়োজনে সময় আরও বাড়ানো হবে। এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, মেয়রের নির্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিটি অলিগলি ও ঘরের কোনায় ডাবের খোসা, ফুলের টবসহ কোথাও যাতে পানি জমে মশা জন্মাতে না পারে সেজন্য লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে।