সব দল অংশ নিলে কারচুপি হবে না

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আই ক্ল্যাডসের সেমিনার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আগামীতে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন জরুরি। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আর সব দল অংশ নিলে নির্বাচনে কারচুপিও হবে না। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত 'রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা এও দাবি করেন, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না; তাদের নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল' অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (আই ক্ল্যাডস) সেমিনারটির আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমিরের সভাপতিত্বে এতে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেমিনারে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন আই ক্ল্যাডসের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষের দিকে হবে। এটি অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত। নির্বাচন ঘিরে
সংবিধানের বাইরে গিয়ে কেউ যদি দাবি তোলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সবাই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সংবিধান মেনেই নির্বাচনে অংশ নেবেন_ এটাই প্রত্যাশা। একইসঙ্গে ধর্মকে রাজনীতি ও ভোটের বাইরে রাখার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, যে রাজনৈতিক দল অতীত পর্যালোচনা করে যত বেশি শিক্ষা নেবে, সেই দল তত এগিয়ে যাবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনে জয় পেতেই হবে_ রাজনৈতিক দলগুলোর এমন মাইন্ডসেট থাকলে সফল নির্বাচন অনুষ্ঠান কঠিন হয়ে পড়বে। তার মতে, নির্বাচনে জেতার চেয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোট দেশের মানুষের জন্য উৎসব ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে হরতালের রাজনীতি করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না, তা প্রমাণিত। অতএব কোনো দল আর এই ধরনের ভুল করবে না, এটাই প্রত্যাশিত। সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, কালো টাকা ও পেশিশক্তিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে এমন কোনো দায়িত্ব দেওয়া যাবে না যাতে তারা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে যান। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এতটাই শক্তিশালী যে নির্বাচন নিরপেক্ষ না হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বিএনপি নেতৃত্বকে লন্ডন থেকে পাওয়া নির্দেশনা মেনে নয়, দেশের পরিস্থিতি ও বাস্তবতা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে অতীতের মতো আবারও ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার খেসারত দিতে হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিজিএমইএর পরিচালক শমী কায়সার বলেন, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের কোনো সদস্য যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, ড. শওকত আরা হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সিনিয়র আইনজীবী আজমালুল হোসাইন কিউসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মিথিলা ফারজানা।