ফরহাদ মজহারকে অপহরণের তথ্য মেলেনি এখনও-আইজিপি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক

পুলিশের তদন্তে এখনও কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদকবিরোধী এক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
পুলিশপ্রধান বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, এটা কোনো অপহরণের ঘটনা নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে আরও কিছু সাক্ষ্য-প্রমাণ দরকার।
আইজিপি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। আরেকটু সময় দিতে হবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ঘটনা বলতে পারব।
গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বের হন কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার। এর কিছুক্ষণ পর তিনি স্ত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে নিজের অপহৃত হওয়ার কথা জানান এবং মুক্তি পেতে ৩৫ লাখ টাকার কথা বলেন। বিষয়টি স্বজনরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগরে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে র‌্যাব তাকে উদ্ধার করে। তিনি খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
উদ্ধারের পর ৪ জুলাই ফরহাদ মজহার আদালতে ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ভোরে তিনি ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলেন। এর পরই অপহরণকারীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। বিকেলে তাকে খুলনায় নামিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বজনরা বলছেন, ঘটনার পর থেকে ফরহাদ মজহার এখনও আতঙ্কগ্রস্ত। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিবাদ ও মাদক পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে
অবস্থান নিয়েছে। যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ২০১৬ সালে মাদকদ্রব্য আইনে ৬২ হাজার ২৬৮টি মামলায় ৭৮ হাজার ২১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পৃৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা জঙ্গিদের অবস্থান গুঁড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে পরিনি। শুধু পুলিশের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ ও মাদক দূর করা যাবে না। এ জন্য সমাজের প্রত্যেককে সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।