দুর্ভোগই নিয়তি ডিএনডিবাসীর

পাশে দাঁড়াননি জনপ্রতিনিধিরা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭     আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৭

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি


ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার লাখো মানুষ এখন পানিবন্দি। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে এলেও কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা প্রকট রূপ নিয়েছে। মানুষের কষ্টের সীমা না থাকলেও তাদের কান্না শোনার যেন কেউ নেই। পাশে এসে দাঁড়াননি কোনো জনপ্রতিনিধিও।



ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ডিএনডি বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধের ভেতর ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বসবাস। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল ৫ হাজার ৬৪ হেক্টর। বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ফতুল্লার রামারবাগ, সস্তাপুর, গাবতলী, কায়েমপুর, চানমারী, ইসলামবাগ, শহীদনগর, মাসদাইর, ইসদাইর, এনায়েতনগর, তল্লা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভূঁইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুবআইল, নয়াআটি, লামাপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি, হাজীগঞ্জ, গোপটা, গোদনাইল, ধনকুণ্ডা, জালকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ওইসব এলাকা এখন পরিণত হয়েছে দুর্গত এলাকায়। অনেক স্থানে চলাচলের জন্য নামানো হয়েছে নৌকা।



দখলে পানি নিষ্কাশনের খাল :ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল, যা চাষাবাদ প্রকল্পের সেচ খাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা। এ ছাড়া ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। চ্যানেল-১ খালের দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২-এর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল ৩ কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটভাটা, ছোট-বড় শিল্প কারখানা নির্মাণ করে। কিন্তু জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় কংস নদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। খাল দখল ও ভরাট করে ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় নিম্নাঞ্চল অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।

২০১৫ সালে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খালের মধ্যে ৩৯ কিলোমিটার জায়গার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটা শুধু কচুরিপানা পরিষ্কারেই শেষ হয়ে যায়।



সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প হাউসের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল জব্বার বলেন, চারটি পাম্প দিয়ে শীতলক্ষ্যায় পানি নিষ্কাশন করা হয়। কিন্তু ৫১ বছরের পুরনো পাম্প হাউসের ৫১২ কিউসেক ক্ষমতার চারটি পাম্প এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারছে না। পাম্পগুলোর ক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তা ছাড়া পাঁচ কিউসেক ক্ষমতার ২২টি পাম্পের মধ্যে এখন সচল আছে চারটি। বাকি ১৮টির সংস্কার কাজ চলছে।

তাদের পাশে কেউ নেই :নারায়ণগঞ্জ-৪ বা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটির বেশিরভাগ এলাকা রয়েছে ডিএনডি বাঁধের ভেতরে। বৃষ্টি হলেই এখানকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়। কোনো সরকারের আমলেই এ নিয়ে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় বা জাতীয়_ সব নির্বাচনের আগেই ডিএনডির জলাবদ্ধতা একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। প্রার্থীরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা মেলে না। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ডিএনডি বাঁধের ভেতরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে বা দুর্গত মানুষের পাশে দেখা মিলছে না এমপি থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। এগিয়ে আসেনি কোনো বিত্তবানও। এ নিয়ে সাধারণের মনে ক্ষোভ বাড়ছে।