চট্টগ্রামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াসার নতুন ভবন

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৭      

আবু সাঈম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াসার নতুন ভবন

চট্টগ্রাম ওয়াসার ২০তলা ভবনের দৃষ্টিনন্দন নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন অপেক্ষা নির্মাণ কাজ শুরুর -সমকাল

চট্টগ্রাম ওয়াসা ২০ তলা নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবন নির্মাণ করা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে ২০ তলা ভবনের ফাউন্ডেশন তৈরি করে দোতলা বেজমেন্টসহ তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে অবশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ। ওয়াসার চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইনপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্ট (সিডব্লিউএসআইএসপি) প্রকল্পের আওতায় এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ওয়াসার রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ সমকালকে বলেন, 'চট্টগ্রাম ওয়াসার কার্যপরিধি দিন দিন বাড়ছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের পর বাণিজ্যিক এ ভবনের বাকি অংশ ভাড়া দেওয়া হবে।'

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে দামপাড়া প্রধান অফিস ভবনের ২০ তলার ফাউন্ডেশন এবং দুটি বেজমেন্টসহ তিন তলা পর্যন্ত নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী ধাপে ২০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। ভবনে থাকবে ফায়ার হাইড্রেন্ট ও এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম। ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে ২০ তলা এ ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮১ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ডিজাইন, ড্রয়িং, হিসাব, ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া এবং নির্মাণ তদারকির জন্য কনসালট্যান্ট হিসেবে মেসার্স ডেভেলপ্টমেন্ট কনসাল্টস লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তদারকি প্রতিষ্ঠানটি ভবনের নকশা উপস্থাপন করলে তা ওয়াসার ২৭তম বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়। পরে নকশাটি স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ওয়াসা চারটি পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে ওয়াসার কর্মপরিধি। বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা। সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বহুতল ভবনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কয়েকটি তলা ওয়াসার দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্য তলাগুলো বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ওয়াসার রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, ২০ তলা ভবনটিতে থাকবে হেলিপেড সুবিধা। অঘ্নিনির্বাপণের জন্য রাখা হবে ফায়ার হাইড্রেন্ট। এ ছাড়া থাকছে আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা। কোনো প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিতে চাইলে তাদের নিজস্ব ডিজাইনে ডেকোরেশনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। শহরের মূল কেন্দ্রে হওয়ায় আধুনিক ও আকর্ষণীয় করা হবে ভবনটি। থাকবে একাধিক কনফারেন্স রুম।

প্রকল্পটির উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'ওয়াসা ভবন চট্টগ্রাম শহরের মূল কেন্দ্রে। তাই একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে নির্মাণ করা হবে। নির্মাণের জন্য শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আশা করছি আগামী জানুয়ারিতে নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।