তিন সিটিতে নির্বাচন

সর্বাধিক খরচ করবেন সরোয়ার-সাদিক

বরিশাল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার ও আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচনীর ব্যয় হবে অন্যদের চেয়ে বেশি। মোট সাত প্রার্থীর মধ্যে তারা দু'জন নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া পুরো ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। তবে মজিবর রহমান সরোয়ার ও জাতীয় পার্টির ইকবার হোসেন তাপস নিজের অর্জিত অর্থে নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন। আর সাদিক আবদুল্লাহসহ অন্য পাঁচ মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী খরচের বেশিরভাগই দেবেন তাদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তারা।

মজিবর রহমান সরোয়ার উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনে তিনি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন, যা তার নিজের টাকা। ব্যয়ের খাত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন তিন লাখ পোস্টারে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা, দেড় লাখ লিফলেটে দেড় লাখ টাকা ও ৬০ হাজার পিস হ্যান্ডবিলে ৬০ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিসে ব্যয় করবেন ২০ হাজার টাকা এবং ৩০টি ওয়ার্ড অফিসের জন্য ৩০ হাজার টাকা। নিজের এবং এজেন্ট ও কর্মীদের যাতায়াতে খরচ করবেন ৮০ হাজার টাকা। মাইকিংয়ে তিনি খরচ করবেন ১৫ হাজার টাকা।

সাদিক আবদুল্লাহও নির্বাচনে ব্যয় করবেন ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে চার লাখ টাকা তার নিজের। বাবা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি দেবেন সাত লাখ টাকা এবং চার লাখ টাকা দেবেন ভাই মইন আবদুল্লাহ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন ৫০ হাজার পোস্টারে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং দুই লাখ করে লিফলেট ও হ্যান্ডবিলে দুই লাখ টাকা, ১০০ পিস ব্যানারে এক লাখ টাকা, ৩০ পিস ডিজিটাল ব্যানারে ৪৫ হাজার টাকা, কেন্দ্রীয় অফিসের আপ্যায়ন খরচ ৯০ হাজার টাকা, সাধারণ অফিসে আপ্যায়ন খরচ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৩০টি ঘরোয়া সভার জন্য ৩০ হাজার টাকা, ২০টি পথসভার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন তিনটি প্রচার মাইকে মোট এক লাখ ৮ হাজার টাকা খরচ করবেন। প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে ১৮ দিনে তার যাতায়াত খরচ ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার টাকা। ১০টি ক্যাম্প স্থাপন বাবদ ব্যয় হবে এক লাখ টাকা।

তৃতীয় সর্বাধিক সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী তাপস। তিনি ১২ লাখ টাকা খরচ করবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। নিজের আয় করা অর্থ থেকেই এ ব্যয় মেটাবেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। তার মধ্যে এক লাখ টাকা  নিজের এবং বাকি চার লাখ দান করবেন দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ওবাইদুর রহমান মাহবুব সোয়া লাখ টাকায় ১৫ হাজার পোস্টার এবং এক লাখ লিফলেট ছাপাবেন। তিনটি অফিসে কর্মীদের আপ্যায়ন খরচ ১৫ হাজার টাকা এবং কেন্দ্রীয় অফিসের আপ্যায়ন খরচ ৩০ হাজার টাকা। ২৪ হাজার টাকায় পথসভা করবেন ১২০টি। ১২ হাজার খরচে ব্যানার করা হবে ৩০টি। প্রতিদিন প্রচার বাবদ পাঁচটি মাইক ব্যবহার করে মোট ৬০ হাজার টাকা খরচ করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ প্রার্থী।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী নবীন চিকিৎসক ডা. মণীষা চক্রবর্তী নির্বাচনী প্রচারে সম্ভাব্য ব্যয় দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় হলো দুই লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সাত লাখ টাকা সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ২০ দলের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অধ্যাপক একেএম মাহবুব আলম। যদিও তিনি বিএনপির সরোয়ারের সমর্থনে মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন।