আজ কী চমক দেবেন সেলিম

সিলেট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

কী বলবেন বদরুজ্জামান সেলিম? দলের স্বার্থে সরে দাঁড়াবেন, নাকি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলে ৩৯ বছর যে দলের আদর্শ লালন করেছেন; সেই দলই তাকে বহিস্কার করবে। আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি নির্বাচন সামনে রেখে এখন আলোচনার কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। মেয়র পদে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি নেতারা দলের স্বার্থে তাকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও সেলিম স্বীয় অবস্থানে অটল। আগামীকাল সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম। এ সময় তিনি কী চমক দেবেন, তা নিয়ে মুখিয়ে আছে দলীয় নেতাকর্মীসহ নগরবাসী। গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করলে সমকালকে সেলিম বলেন, আজ কোনো বক্তব্য দেব না। এখন  আমি গণসংযোগে ব্যস্ত আছি। যা বলার কাল (আজ) বলব।

সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এমএ হককে নিজের 'রাজনৈতিক গুরু' অভিহিত করেন সেলিম। মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও তিনি যথারীতি নগরীর যতরপুরে এমএ হকের বাসায় গিয়ে তাকে সালাম করে দোয়া নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এমএ হককে। পাশাপাশি সেলিমকে 'ম্যানেজ' করার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে। গতকাল বিকেলে প্রায় হতাশ কণ্ঠে এমএ হক সমকালকে বলেন, এখনও কিছু করতে পারিনি। আজ সকালে আবার চেষ্টা করে দেখব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে আমাকে সম্মান করলেও এখন গালিগালাজ করে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মন্তব্য থেকে বিরত  থেকে বলেন, অপেক্ষা করুন।

গত বৃহস্পতিবার মহানগর বিএনপির কর্মী সভায় সেলিমকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আরিফ বলেন, সেলিম সব সময় দলের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তিনি খুবই কর্মঠ নেতা। বর্তমানে তিনি আবেগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আশা করি, নির্বাচনে তিনি আমার পাশে এসে দাঁড়াবেন। এই সভায় আরিফ অতীতের

কর্মকাণ্ডের জন্য কেউ কষ্ট পেলে তার জন্য ক্ষমাও চান।

নির্বাচনের ব্যাপারে বদরুজ্জামান সেলিমের অটল থাকার নেপথ্যে বিএনপির অনেকে সরকারের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও মহানগর বিএনপির দু'জন নেতা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে এমন আশঙ্কার কথা জানান। তারা বলেন, প্রথমে ক্ষোভ-হতাশা থেকে সেলিম প্রার্থী হয়েছেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন সার্বিক পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। মহানগর বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যদি তিনি নির্বাচন করতে চান, তাহলে করুন। ভোটের মাঠেই বুঝতে পারবেন দলের বাইরে গেলে কী হয়। তবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শেষ পর্যন্ত বদরুজ্জামান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের স্বার্থের কথাই ভাববেন।

গত বছরের ১ অক্টোবর নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বদরুজ্জামান। যুক্তরাজ্য সফর শেষে ফেরার পরপর তার এমন ঘোষণায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সে সময় মেয়র পদে তাকে লন্ডন প্রবাসী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট বলে প্রচার করা হয়। গত ২১ জুন সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। দু'দিন পর ২৪ জুন রাজশাহী ও খুলনায় দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও সিলেটে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। এ অবস্থায় বিগত নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে প্রচার করেন বদরুজ্জামান। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ জুন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

সিসিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে গত ২৭ জুন কেন্দ্র থেকে আরিফের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে ২৮ জুন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এ অবস্থায় তাকে 'ম্যানেজ' করার জন্য তার বাসায় গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন।

গতকাল সমকালকে সাখাওয়াত বলেন, মেয়র নির্বাচন দলের অনেক ওপরের বিষয়। এ ক্ষেত্রে হাইকমান্ড থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।