ঘুরে দাঁড়াচ্ছে টাম্পাকো

দুর্ঘটনার দুই বছর

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক ও টঙ্গী প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর সেই টাম্পাকো ফয়েলস কারখানা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল এই কারখানাটি। দুর্ঘটনাস্থলেই কারখানার ভবন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। মেশিনারিজ স্থাপনের কাজও চলছে। শুরু হয়েছে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া। চলতি মাসের শেষের দিকে কারখানাটি চালু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান।

দুর্ঘটনার পর দায়ের করা দুটি মামলার একটিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং অন্যটির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আদালতে। মামলায় মোট আসামি ছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে চার্জশিটে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- টাম্পাকোর চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মকবুল হোসেন লিপু, তার ছেলে (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) তানভীর আহম্মেদ, মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান, ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান ও ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) হানিফ। তারা উচ্চ আদালত থেকে

জামিনে রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর হোসেন সমকালকে জানান, তিনি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলায় বদলি হয়েছেন। বদলি হওয়ার আগে গত জুনে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। তিনি বলেন, টাম্পাকো দুর্ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল টঙ্গী থানায়। একটির বাদী পুলিশ এবং অন্যটির বাদী দুর্ঘটনায় নিহত জুয়েলের বাবা। দুটি মামলা একই অভিযোগে করা হয়েছিল। এ কারণে পুলিশের মামলাটিতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং জুয়েলের বাবার দায়ের করা মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আদালতে। তদন্তে গ্যাসলাইন ছিদ্র থেকে বিস্ম্ফোরণ ঘটার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে ওই দুর্ঘটনার জন্য পাঁচজনের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং চার্জশিটে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিকট শব্দে বিস্ম্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন লেগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় টাম্পাকোর দুটি ভবন। তার আগের দিন ২৭ টন কেমিক্যাল (রাসায়নিক) এনে কারখানায় মজুদ করা হয়েছিল। সেগুলো ড্রামে ছিল। ওই কেমিক্যালের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোট ৪১ জন শ্রমিক-পথচারী প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত ৪০ শ্রমিক। তবে পুলিশের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৪০ জন। ঘটনার পরপরই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক পথচারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা নিয়ে যাওয়ায় সেটি পরে পুলিশের তালিকায় ওঠেনি।

নিহত ৪০ জনের মধ্যে শ্রমিক ৩৫ জন এবং পাঁচজন পথচারী। অগ্নিকাণ্ডের পর অন্তত নয়টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটির একটি ছাড়া প্রায় সবক'টির প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস থেকে বিস্ম্ফোরণ ঘটেছে। তবে তিতাসের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি বিস্ম্ফোরণের কারণ হিসেবে কেমিক্যালকে

দায়ী করেছে।

গতকাল রোববার টঙ্গীর বিসিক এলাকায় টাম্পাকোতে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। জানালা-দরজা লাগানোর কাজ চলছে। কোনো কোনো ভবনে মেশিনারিজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে টাম্পাকো কারখানার ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে কারখানা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আগের শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তারা আগ্রহী হলেই চাকরি করতে পারবেন। টাম্পাকো দুর্ঘটনায় আহত অনেককে এখনও মালিকপক্ষ বেতন দিয়ে আসছেন বলে দাবি

করেন তিনি।