সোনালি বাংলাদেশের প্রত্যাশায়

প্রকাশ: ২৯ মে ২০১৬

জেবউননেছা

মানসম্মত শিক্ষার জন্য চাই যোগ্য শিক্ষক ও মানসম্মত সিলেবাস। তাছাড়া, শিক্ষকদের হতে হয় অনেক বেশি দায়িত্বশীল। কয়দিন ধরে রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার কথা শুনে মনটা বড্ড খারাপ। বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ক্লাস হয় না, শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীরা দেদার মুঠোফোন ব্যবহার করে। প্রতিদিন ক্লাস হওয়ার কথা ছয়টি; হয় দুটি বা তিনটি। এগুলো শুনে মনে হয়েছে, মগের মুল্লুুকের দেশে বাস করছি। যার যা মন চায় তাই করে যাচ্ছে। এতে দেশের কতটা বাজল এই নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।
জবাবহীনতা, অস্বচ্ছতা, দায়িত্বহীনতা, কর্তব্যে অবহেলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি নামক কোষগুলো ক্যান্সারের মতো সমাজের মজ্জায় নীরবে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগতভাবে, আমি শ্রেণীকক্ষে যেসব ছাত্রছাত্রী সব সময় পেছনে বসে, তাদেরকে সামনে বসানোর ব্যবস্থা করি। অমনোযোগীদের উৎসাহ প্রদান করি। ব্যক্তিগত গাড়িচালককে উপদেশ দিই, তুমি যখন গাড়ি চালাবে, তখন যেন কোনো পথচারীর গায়ে একটি জলের ছিটা না পড়ে। কিন্তু আমি কী করে একা এ সমাজকে পরিবর্তন করব?
আমি মনে করি, একজন অযোগ্য শিক্ষক বা অযোগ্য কর্মকর্তার হাতে থাকে তিনটি প্রজন্ম। সে যদি অযোগ্য হয় তাহলে সমাজে যোগ্য নেতৃত্ব আসবে কোথা থেকে? বিষয়টি সেই বাগধারার মতো_ 'বানরের গলায় মুক্তার হার'। কথিত আছে, বানররা স্বজনপ্রীতি নামক নোংরামিটা করে, কর্তাব্যক্তিদের কাছে ধর্না দিয়ে একটি ভালো চাকরি পেয়ে যায়। এর পর বড় বড় বুলি আওড়ায়। প্রবাদে আছে_ 'ফাঁকা কলস বাজে বেশি।' আর এই ফাঁকা কলসগুলোর জন্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার। শোনা যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু সমাজে যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে, সে টিকার আবিষ্কার করবে কে?
যে দেশকে ভালোবাসে সে কখনও কর ফাঁকি দিতে পারে না, ঘুষ নিতে পারে না, নিয়োগ বোর্ডে বসে অযোগ্য ব্যক্তিকে ওপরে তোলার জন্য যোগ্য ব্যক্তির নানা দোষ খুঁজে নিয়োগ বোর্ডে প্রার্থীকে হেনস্তা করতে পারে না। যে দেশকে ভালোবাসে কখনোই সে শিক্ষক হয়ে শ্রেণীকক্ষকে শিক্ষকবিহীন রাখতে পারে না। আর কয়টি বছর পর প্রিয় বাংলাদেশের বয়স ৫০ হবে। '৫০' সংখ্যাটি সংখ্যায় কম দেখালেও সময় হিসাবে অনেক। '৫০' মানে প্রায়ই প্রবীণ। এই প্রবীণ দেশটি যেমন অর্থনৈতিক, তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি মানসিকতার দিক থেকেও এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করা এখন সময়ের দাবি মাত্র। প্রিয় দেশটিকে অনাগত প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এখনই সমাজে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরি করার উদ্যোগ নিতে হবে। শহীদের রক্তস্নাত এই দেশকে তথাকথিত বানরের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার মোক্ষম সময় এখনই। সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে আমার এই দেশটিকে কচুরিপানার মতো জীবদ্দশায় ভেসে যেতে দেখতে চাই না। পদ্মফুলের মতো পৃথিবীর বুকে এই দেশটি ফুটে থাকুক_ দেখতে চাই। আজ থেকে সেই সোনালি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রইলাম।
সহকারী অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
asiranjar@yahoo.com