স্বপ্ন ও সাহসের দিনগুলো

বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

সমশের মবিন চৌধুরী, বীরবিক্রম

বাংলাদেশের গৌরবের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত পর্বে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন যারা তাদের নিয়েই সমকালের এ বিশেষ আয়োজন। নিজেরা লড়েছেন, অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। দেশবাসীর জন্য ছিলেন প্রেরণা। তারা কেউ ছিলেন তারুণ্যে, কেউ যৌবনে। বিজয়ের সাড়ে চার দশক উপলক্ষে তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তুলে আনা হয়েছে স্বপ্ন ও সাহসের সেই দিনগুলোর কথা
গ্রন্থনা :অজয় দাশগুপ্ত

সমশের মবিন চৌধুরী ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং প্রথমদিকের প্রতিরোধ যুদ্ধেই আহত হন। আহত অবস্থাতেই বন্দি হন। মুক্তজীবনে ফিরে আসেন ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীরবিক্রম খেতাব দেওয়া হয়। সমশের মবিন চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করি, নিজে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। তিনি বলেন, ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়ার সময়েই বুঝতে পারি- আমাদের এ বাংলাদেশ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের মাথাব্যথা নেই। জুলফিকার আলি ভুট্টো ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বলেছিলেন- আল্লাহ, চীন ও বর্ষা পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে। জুলফিকার আলি ভুট্টো সে সময় পাকিস্তানের লৌহমানব হিসেবে পরিচিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম এভাবে- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের একত্র থাকা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে অসম্ভব। ১৯৭১ সালে সেটাই প্রমাণিত হলো।
সমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিই। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালেই উপলব্ধি করি, আমি যেন বিদেশের কোনো এলাকায় রয়েছি। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আমাদের সঙ্গে যারা অফিসার র‌্যাঙ্কে যোগ দিয়েছেন, আমাদের প্রতি তাদের মনোভাব ছিল- যেন দয়া করছেন। আমরা একাডেমিতে থাকাকালেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনা বাঙালি ক্যাডেটদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তবে সামরিক বাহিনীতে চাকরির কারণে মনের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করার সুযোগ ছিল না। ১৯৬৯ সালে কমিশন পেয়ে যশোরে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিই। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কাজ করলেও আমি যে বাঙালি- সেটা মুহূর্তের জন্য বিস্মৃত হইনি। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় খেমকারান সেক্টরে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল। তখন থেকে আমাদের মনেও সাহস সৃষ্টি হয় যে, বাঙালিরা সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। বাঙালি ভাইয়েরা সামরিক বাহিনীতে রয়েছে- এ নিয়ে তাদের মধ্যে গর্ববোধ ছিল। বোধগম্য কারণেই বাঙালিরা পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে একটি স্বতন্ত্র মনোভাব নিয়ে চলছিল। আমাদের রাষ্ট্র এক, পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত এক; কিন্তু আমরা বাঙালি- পাকিস্তানের সঙ্গে এক নই। ১৯৭০ সালে যশোর থেকে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হই। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। এতে আমরা সামরিক বাহিনীতে থেকেও উল্লসিত হই এই ভেবে যে, বাঙালিদের নেতা তার মানুষের কাছে ফিরে এসেছেন।
সমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফল বাঙালি অফিসার ও সৈন্যদের উৎসাহিত করে। নির্বাচনের আগেই ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ বিপর্যয়ের সময় আবারও প্রমাণ হয়- পশ্চিম পাকিস্তানিদের কাছে বাঙালিদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ, তা সামরিক বাহিনীর বাঙালিদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠতম বাঙালি অফিসার ছিলেন জিয়াউর রহমান। একদিন তার বাসভবনে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের কোনো মূল্যই দেয় না; তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিদের এ মনোভাবেরই প্রকাশ ঘটে। আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্দিষ্ট ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টিতে জয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যান। অন্য সব বাঙালির মতো আমারও সেদিন খুশিতে মন ভরে গিয়েছিল এই ভেবে, বাঙালিরা পাকিস্তান শাসন করার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে অতীতের বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান ঘটবে।
সমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের শুরু থেকেই বুঝতে পারি, পাকিস্তানের সামরিক কমান্ড ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাঙালিদের হাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। বাঙালি হিসেবে এটা আমার মনেও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। জনগণও পাকিস্তানের এ অবস্থান মেনে নিতে পারেনি। তারা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না। এক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পথে চলেছে পাকিস্তান- সেটা স্পষ্ট হতে থাকে। পাকিস্তানের ভৌগোলিক ঐক্য নিয়ে মানুষ আলোচনা করছে। ১৯৭১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মেজর জিয়াউর রহমান হঠাৎ আমাকে প্রশ্ন করেন- বাংলাদেশ যদি স্বাধীন হয়ে যায় তাহলে পাকিস্তানের তরফে যে সামরিক হামলা নেমে আসবে, তা প্রতিরোধ করার শক্তি আমাদের আছে কি-না। তাৎক্ষণিক পরিসংখ্যান নিয়ে দেখি যে পূর্ব পাকিস্তানে সে সময়ে অফিসার ও সৈন্য, ইপিআর ও পুলিশ মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার অস্ত্রসজ্জিত বাঙালি রয়েছে। তিনি বলেন, এটা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। আমি বলি, স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে সেটা শুধু বাঙালি অফিসার ও সৈন্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জনগণও তাতে সম্পৃক্ত হবে এবং রাজনৈতিক জনযুদ্ধে পরিণত হবে, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঠেকাতে পারবে না। এ ঘটনাটি বলার কারণ, বাঙালি সেনা সদস্যদের মধ্যে যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে সেটা তুলে ধরা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং তাতে জনগণের প্রতিক্রিয়া আমাদের সবার মনে সাহস বাড়িয়ে দেয়। পরদিন থেকে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে মেজর জিয়ার নির্দেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গোপন প্রস্তুতি চলতে থাকে। এ প্রস্তুতি আরও জোরদার হয় যখন জানা যায় যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ অপতৎপরতা চট্টগ্রামে তৎকালীন সামরিক প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার এমআর মজুমদারের মাধ্যমে জানা যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, যে কোনো সময়ে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের বেলুচ রেজিমেন্ট বাঙালি সৈন্য ও অফিসারদের নিরস্ত্র করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই চট্টগ্রামের ছাত্র ও তরুণ সমাজ স্লোগান তোলে- বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। এতে বাঙালি সৈন্যরা উৎসাহিত হয়। পরিস্থিতি যত খারাপের দিকে যাচ্ছিল, আমরা তত অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। একই সঙ্গে প্রত্যাশা বাড়ছিল- স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে। ইপিআরে সে সময়ে জ্যেষ্ঠতম বাঙালি অফিসার ছিলেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম। তিনি সেনাবাহিনী ও ইপিআরের সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২১ মার্চ রোববার অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার মেসে ক্যাপ্টেন হারুন আহমদ চৌধুরীসহ কয়েকজন বাঙালি অফিসার জানান, তাদের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম আয়োজিত এক বৈঠকে যেতে হবে। সেখানে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা থাকবেন। মেজর জিয়া এ খবর জেনে আমাকে যেতে উৎসাহ দেন। তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা সঠিক হবে না। আমাদের বৈঠকটি হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসভবনে। বাঙালি সামরিক অফিসারদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক ছিল এটাই প্রথম। ক্যাপ্টেন রফিক স্পষ্ট ভাষায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জানতে চান- তারা কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি-না এবং তাদের সামরিক প্রস্তুতি কী। আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান কায়সার বলেন, যেহেতু ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলছে, তাই এ মুহূর্তে সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা নেই। ক্যাপ্টেন রফিক কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলেন- সংলাপ থেকে শুভ কিছু বয়ে আনবে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিদিন পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে সৈন্য ও অস্ত্র-গোলাবারুদ আনা হচ্ছে ঢাকায়। এর অর্থ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না। বরং আমাদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, যদি সশস্ত্র যুদ্ধ করতে হয় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত থাকবে। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ চাই। পরদিন আমি জিয়াউর রহমানকে বৈঠকের খবর অবহিত করি। তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর বাঙালিরা তো প্রস্তুত। তবে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। এ বৈঠকের চার দিন পরই আমাদের আশঙ্কা সত্যি হলো। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্বপরিকল্পিত 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। ঢাকায় গণহত্যার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও শুরু হয় অভিযান। বেলুচ রেজিমেন্ট ঘুমিয়ে থাকা বাঙালি সৈন্যদের ওপর হামলা শুরু করে। এ সময় কর্নেল এমআর চৌধুরীসহ অন্তত ৩শ' জনকে হত্যা করা হয়। এ খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে আমরা স্বাধীন। আমরা এক ঐতিহাসিক সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করি।
সমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
সমশের মবিন চৌধুরী ১১ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে কালুরঘাট যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন। কর্ণফুলী নদীর ওপর সে সময়ের রেল ও সড়ক সেতু রক্ষায় বাঙালি সেনারা অবস্থান নিয়েছিল। এ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন হারুন চৌধুরীও গুরুতর আহত হন। সমশের মবিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম নেভাল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। এর পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর কামালসহ কয়েকজন নিষ্ঠুর নির্যাতন চালান। এমনকি বেয়নেট দিয়ে আঘাত করেন। এ সময়ে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয় সমশের মবিন চৌধুরীর। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের এক পুরুষ নার্স হাসপাতালে তার ওপর নির্যাতন চালানোর সময় মেজর কামালের হাত থেকে বেয়নেট কেড়ে নেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। তিনি বলেন, সাহস থাকে তো রণাঙ্গনে গিয়ে লড়াই কর। পরে সমশের মবিন চৌধুুরীকে ঢাকায় সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন। তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়, যার ৬টি অভিযোগের প্রতিটিতেই বিধান ছিল মৃত্যুদণ্ডের। কিন্তু ডিসেম্বরের শুরু থেকে রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করার অভিযান প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠতে থাকায় এ বিচার আর চলতে পারেনি। দীর্ঘ ৯ মাস পর তিনি মুক্তজীবনে ফিরে আসেন ১৭ ডিসেম্বর। এর আগের দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের এদেশীয় সহযোগীদের নিয়ে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।