ভালোবাসার কারিগর

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০১৪      

রিয়াজ

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মহম্মদ হান্নান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরতরে চলে গেলেন গত ২২ জানুয়ারি। তাকে নিয়ে চিত্রনায়ক রিয়াজের স্মৃতিচারণ

তিনি আমাকে বেটা বলে ডাকতেন। ভালোবাসা, ভরসা আর বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের কারণেই আমি তার কাছে সন্তানতুল্য ছিলাম। তিনি কখনও বড় ভাই, কখনও বাবার মতো আমাকে ছায়া দিয়েছেন। চলচ্চিত্রে কাজের সূত্র ধরেই মহম্মদ হান্নানের সঙ্গে আমার সখ্য। সালমান শাহকে নিয়ে তিনি একটিই ছবি বানিয়েছিলেন। এর নাম 'বিক্ষোভ'। তার ছবিতে অভিনয়ের আগে থেকেই এটি আমার অনেক প্রিয়। হান্নান ভাইয়ের সাতটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। ছবিতে গান ও সংলাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি খুব বেশি যত্নবান ছিলেন। যে কারণে তার ছবির গানগুলো বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পেত। পরিচালনায় আসার আগে তিনি সংলাপ রচয়িতা হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় আমার প্রথম চলচ্চিত্র 'বাংলার নায়ক'। এর পরিচালক ছিলেন দেওয়ান নজরুল। এর পরের বছর দিলীপ বিশ্বাসের 'অজান্তে' ছবিতে অভিনয় করি। আমার তৃতীয় ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান। অর্থাৎ অভিনয়জীবনের শুরু থেকে তার সানি্নধ্য পেয়েছিলাম। ১৯৯৭ সালে মহম্মদ হান্নান পরিচালিত 'প্রাণের চেয়ে প্রিয়' ছবিটি আমার ক্যারিয়ারে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। বলতে দ্বিধা নেই, এই ছবির মাধ্যমে তারকা খ্যাতির চূড়ান্ত দেখা পেয়েছিলাম। 'প্রাণের চেয়ে প্রিয়'র ব্যবসায়িক সফলতার পর মহম্মদ হান্নান পরিচালিত 'ভালোবাসি তোমাকে' [শাবনূর], 'বিদ্রোহ চারিদিকে' [পপি], 'সাবধান', 'দলপতি' [রাভিনা], 'খবরদার' [পূর্ণিমা] ও 'ভালোবাসা ভালোবাসা' [শাবনূর] ছবিতে অভিনয় করি। ছবির দৃশ্যধারণের সময় আনন্দ-উৎসবের আমেজে থাকতেন হান্নান ভাই। তাকে রসিক প্রকৃতির মানুষই মনে হয়েছে আমার। লাইট, ট্রলি বা ইউনিটের কেউ কোনো ভালো কাজ করলেই তিনি একটা মজা করতেন। ভালোবেসে বলতেন, 'আয়, তোর... একটা লাথি' দেই।' এ বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তার এই সংলাপের সঙ্গেও মানিয়ে নিয়েছিলেন সবাই।
মহম্মদ হান্নানের চলে যাওয়ায় আমি অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছি। এমনিতেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে আছি। তার ওপর তার মতো গুণী নির্মাতার শূন্যতা তীব্রভাবে কষ্ট দিচ্ছে। তিনি প্রায়ই আমাকে আবার অভিনয়ে ফেরার কথা বলতেন। আমি বলতাম, মনের মতো প্রযোজক নিয়ে আসেন, কাজ করব। তিনিও বুঝতেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবেন এমন প্রযোজক এখন আর তেমন নেই। এ নিয়ে তারও আক্ষেপ ছিল। এরপরও হান্নান ভাই কাজ করছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্র নিয়েই ছিলেন। আজ মৃত্যুর পর তাকে মূল্যায়নের চেষ্টা করছি আমরা। কিন্তু এটা জীবদ্দশায়ই তার প্রাপ্য ছিল। হ