'ইতিহাস থেকেই নাটক সৃষ্টি'

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৬      

দেবাশীষ ঘোষ। নাট্য গবেষক ও নির্দেশক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার নির্দেশিত 'কথা ৭১' ঢাকা পদাতিকের অন্যতম গবেষণা নাট্য। এর পর তিনি নির্দেশনা দেন 'অমাবস্যার কারা', 'পিয়ার চাঁদ' ও 'ক্ষোভ' নামে মুক্তিযুদ্ধের নাটক। সম্প্রতি পুতুলনাচ ও কুশীলবদের সমন্বয়ে নবআঙ্গিকে মঞ্চ

নির্দেশনার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প নিয়ে আগ্রহী হয়েছিলেন কেন?
একজন বাঙালি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমরা সবাই গর্ববোধ করি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুতুলনাচ নিয়ে গবেষণা করলেও ২০০৫ সালে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে 'কথা ৭১'র কাজ করি। ঢাকা পদাতিকের এ গবেষণানাট্য নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের খণ্ড খণ্ড চিত্র নিয়ে। এজন্য প্রচুর ইতিহাস ঘাঁটতে হয়েছে। এক সময় অনুভব করলাম, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের হাজারো না জানা গল্প রয়েছে। সাহিত্য বা নাট্যাঙ্গনে এর উপস্থিতি খুব কম। তারপর নটরণ থেকে 'অমাবস্যার কারা', প্রশিকা থেকে 'পিয়ার চাঁদ' এবং শিল্পকলা একাডেমি, সিরাজগঞ্জ থেকে 'ক্ষোভ' নাটকটি করা। এরমধ্যে শেষ নাটকটি আমার লেখা, আগের তিনটি বন্ধু কুমার প্রীতিশ বলের লেখা।
'বীরাঙ্গনার বয়ান' নাটকের ৫০তম প্রদর্শিত অনুষ্ঠিত হলো, এর বিশেষত্বটা কী?
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন থেকে আমাদের কয়েকজনকে নাটক নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে সময় সহজে করা যায় এমন নাটক ভাবছিলাম। শব্দ নাট্যচর্চার রওশন জান্নাত রুশনীর এ নাটকটি ভালো লাগল বিভিন্ন কারণে। সেট-প্রপসহীন মঞ্চে একজন বীরাঙ্গনা কেবল মাইকের সামনে কথা বলে যাচ্ছেন। কথার মধ্য দিয়েই মূর্ত হয়ে ওঠছে তার জীবন ও সামাজিক চালচিত্র।
সম্প্রতি 'শিবানী সুন্দরী' মঞ্চে এসেছে, দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন?
এখন পর্যন্ত নাটকটির দুটো প্রদর্শনী হয়েছে। এ নাটকে প্রথমবারের মতো মানুষ এবং পুতুল ব্যবহার করেছি। বি-বাড়িয়ার বিখ্যাত পুতুল ব্যবহারের মাধ্যমে শিবানী সুন্দরীর লোকগাথা উপস্থাপন করেছি। মানুষের অনুভূতি প্রকাশ যতটা সহজ, তা পুতুল থেকে বের করা জটিল এক কৌশল। বি-বাড়িয়ার বিখ্যাত কারিগর ধন মিয়ার শিষ্য খেলু মিয়া প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এতে কাজ করতে গিয়ে হাতে-কলমে পুতুল তৈরি, কাপড় কাটা, সেলাই করাসহ পুতুল চালনা বিষয়ে নতুন অনেক কিছু শেখাও হয়েছে। কস্টিউম, লাইট এবং সঙ্গীত নিয়েও ভাবতে হয়েছে। ফলে দর্শক দেখার পর চমকে যাচ্ছেন।
পুতুলনাচ নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হলেন কেন?
ছোটবেলা থেকেই ঢাকা পদাতিকের সঙ্গে কাজ করতাম। তাই রবীন্দ্রভারতীতে পড়ার সময় থিয়েটারের বদলে ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা ছিল। সেখানে সুধীর দত্তের 'ডলস থিয়েটার' দেখে পুতুলনাচ নিয়ে আগ্রহী হলাম। পরে আবিষ্কার করলাম, মধ্যযুগ থেকেই পুতুলনাচের একটি বড় অবদান রয়েছে নাট্যাঙ্গনে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এ অভিনয় আঙ্গিক নিয়ে কাজ খুব কম। সেরকম ভাবনা, নিজের পছন্দ ও দায়বদ্ধতা ছিল বলেই গবেষণা শুরু করা। া