জাতীয় তথ্য বাতায়ন

এক পোর্টালে পুরো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪     আপডেট: ২৪ জুন ২০১৪      


প্রায় ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে চালু হয়েছে 'জাতীয় তথ্য বাতায়ন'। পুরো বাংলাদেশের তথ্যচিত্র উঠে এসেছে পোর্টালটির মাধ্যমে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশনের [এটুআই] ডেভেলপ করা পোর্টালটি বিশ্বের অন্যতম বড় সাইট। লিখেছেন হাসান বেনাউল কাজল

দেশের সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের জন্য তৈরি প্রায় ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে চালু হয়েছে 'জাতীয় তথ্য বাতায়ন'। পুরো বাংলাদেশের তথ্যচিত্র উঠে এসেছে পোর্টালটির মাধ্যমে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশনের [এটুআই] ডেভেলপ করা পোর্টালটি বিশ্বের অন্যতম বড় সাইট বলে জানা গেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে পোর্টালটি। ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম অঙ্গীকার 'জনগণের দোরগোড়ায় সেবা' বাস্তবায়নে পোর্টালটি নতুন মাত্রা যোগ করল।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন

জাতীয় বাতায়ন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বাতায়ন। সরকারি উদ্যোগে ২৫ হাজার সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটকে একসূত্রে সংযুক্তকরণে এটি অনন্য নজির। বাংলা ভাষায় তৈরি এ বাতায়নে রয়েছে ২০ লাখের বেশি কনটেন্ট। সরকারের প্রতিটি দফতরের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন পোর্টালটি ডেভেলপ এবং কনটেন্ট তৈরিতে। জাতীয় তথ্য বাতায়নে সরকারের সব ধরনের তথ্য ও সেবা ছাড়াও রয়েছে দেশের পর্যটনকেন্দ্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ছবি এবং বর্ণনা। জাতীয় তথ্য বাতায়ন যেন বাংলাদেশের নতুন ঠিকানা।

তথ্য বাতায়ন সম্পর্কে এটুআই প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, সব সরকারি ওয়েবসাইটকে একসূত্রে সংযুক্ত করে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই জাতীয় বাতায়ন। কুমিল্লা জেলায় ছোট্ট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেও ক্রমেই এর ব্যাপ্তি বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ২৫ হাজার সাইটের অনন্য এক তথ্য ভাণ্ডার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

জাতীয় তথ্য বাতায়নের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, একজন নাগরিক যে কোনো একটি ওয়েবসাইট থেকে পুরো বাতায়নের ২৫ হাজার ওয়েবসাইট ভ্রমণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ বাতায়নে [নধহমষধফবংয.মড়া.নফ] প্রবেশ করে বাম দিকে নেভিগেশন মেন্যু থেকে সাইট নির্বাচন করতে হবে [প্রয়োজনমতো মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বিভাগ নির্বাচন]। এরপর বিভাগের সাইট থেকে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের সাইটে যেতে হবে। বাতায়ন থেকে নাগরিকরা খুব সহজেই পাবেন কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, আইন, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সার্কুলার/গেজেট, সেবা ও তা পাওয়ার ধাপ, সরকারি ফর্ম, সিটিজেন চার্টার, কর্মকর্তাদের তালিকা, ডিজিটাল গার্ড ফাইল, ই-ডিরেক্টরি, মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় ই-সেবা, বিভিন্ন প্রকল্পের দরকারি তথ্য। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তালিকাও সনি্নবেশিত করা হচ্ছে এখানে। ইউনিয়ন থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত বাংলা ভাষায় তৈরি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই ওয়েব পোর্টালে পাওয়া যাবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সব দফতরের প্রয়োজনীয় তথ্য। জাতীয় তথ্য বাতায়নে সব তথ্য-উপাত্ত-ছবি-ভিডিও আপলোড, সম্পাদনা, কনটেন্ট সংযোজন করার কাজ সবই করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশেষ করে ইউনিয়ন, জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সব তথ্য বাতায়ন তৈরিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এই বাতায়ন তৈরির পথ পরিক্রমায় ইউনিয়নের উদ্যোক্তা-সচিব থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠপর্যায়ের অনেক উদ্যমী কর্মকর্তা স্বপ্রণোদিত হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা তথ্য বাতায়নকে নান্দনিক ও তথ্যবহুল করতে দক্ষতা বৃদ্ধি শীর্ষক একাধিক প্রশিক্ষণের আয়োজনও করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

একটি মাত্র পোর্টালে পুরো বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে আগামীতে জাতীয় তথ্য বাতায়নে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন সুবিধা। দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে জাতীয় তথ্য বাতায়ন। জাতীয় তথ্য বাতায়ন অপরূপ বাংলাদেশকে তুলে ধরবে দেশি-বিদেশি সবার কাছে। এই একটি ঠিকানায় সবাই খুঁজে পাবেন তাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও ই-সেবা। জাতীয় বাতায়নের বিভিন্ন বিষয় যেমন_ ট্রেনিং ম্যানুয়াল, পর্যটন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ডিরেক্টরি, প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টরি , জমি নিবন্ধন পদ্ধতি, মিউটেশন, ইউআইএসসি লোকেটর, ই-সার্ভিস ডিরেক্টরি, ই-বুক, সার্ভিস প্রসেস ম্যাপ, স্বাস্থ্য, সরকারি ফরম, নাগরিক সেবা, টেলিফোন ডিরেক্টরি, রাস্তার ডিরেক্টরি, হোটেল/মোটেল/রেস্তোরাঁ, ব্যাংক, প্রয়োজনীয় বিধি/সার্কুলার ইত্যাদি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে মোবাইল অ্যাপস। তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি হয়ে উঠবে আরও সহজ।