কাদরির দেশে ফেরা নিয়ে পাকিস্তানে তুলকালাম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪      

সমকাল ডেস্ক

কানাডা প্রবাসী পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিক দেশে ফেরা নিয়ে তার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই নেতা পাকিস্তানে ফেরেন। এর আগে রাতে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সরকারবিরোধী বিপ্লবের ডাক দিয়ে দেশে ফেরা এ নেতার ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ থেকে ঘুরিয়ে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর :এএফপি, রয়টার্স, জিয়ো নিউজ ও বিবিসি অনলাইন।
কানাডা প্রবাসী পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) নেতা তাহির উল কাদরি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সরকারের বিরুদ্ধে 'বিপ্লবে' নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলে পাকিস্তানে ফেরার ঘোষণা দেন। তাকে বহনকারী বিমানটি গতকাল সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কাদরির সমথর্কদের আটকাতে আগেরদিন থেকেই রাজধানীর প্রবেশ পথসহ বিমানবন্দর সংলগ্ন সড়কগুলোয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করা হয়। তা সত্ত্বেও কাদরির বিপুল সংখ্যক সমর্থক বিমানবন্দরের সামনে জড়ো হতে সক্ষম হন। রোববার রাতেই বিমানবন্দরের বাইরে কাদরি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সমর্থকদের ইট-পাটকেলের জবাবে পুলিশ টিয়ার শেলের গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৭৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করলেও পরে তা করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় বিমানেই বসে থাকেন কাদরি। তিনি তার নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী দেওয়ারও শর্ত দিয়েছিলেন। গত বছরের জানুয়ারিতে আলোচনায় আসেন তাহির উল কাদরি। সে সময় তিনি তৎকালীন পিপিপি সরকারের পদত্যাগ এবং সেনা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছিলেন।
তবে তা চারদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি এবং পাকিস্তানে সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচন হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরপর নির্বাচিত দুটি সরকারের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। কাদরির অনেক সমর্থক থাকলেও ভোটের মাঠে তার দলের তেমন কোনো প্রভাব নেই। তবে তার পেছনে দেশের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে। এবারও এমন এক সময়ে তিনি পাকিস্তানে ফেরার ঘোষণা দিলেন যখন জঙ্গিবিরোধী অভিযান নিয়ে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ ধরনের অভিযানের পক্ষে না থাকলেও সেনাবাহিনীর চাপেই তাকে এতে সম্মতি দিতে হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই ওয়াজিরিস্তানসহ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোয় বিমান হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এ সময় কাদরির আগমন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সেনাবাহিনীর পুরনো কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।