মিসরে আলজাজিরার তিন সাংবাদিকের জেল

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪      

সমকাল ডেস্ক

আলজাজিরার তিন সাংবাদিকসহ ১৪ সাংবাদিককে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মিসরের একটি আদালত। নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন, সহযোগিতা ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাদের। তিন সাংবাদিকের দু'জনকে ৭ বছর এবং একজনকে অতিরিক্ত তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় মিসরের গণতন্ত্রের দিকে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ রায়কে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলেও উল্লেখ করেছে। আলজাজিরা এ রায়কে অবিচার উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছে। ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ড মিসরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। খবর আলজাজিরা, এএফপি ও বিবিসির।
পিটার গ্রেস্টে ও মোহামেদ ফাহমিকে ৭ বছর করে এবং প্রযোজক বাহের মোহামেদকে গুলি বহন করার দায়ে অতিরিক্ত তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। আলজাজিরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। তাদের মধ্যে পিটার গ্রেস্টে অস্ট্রেলিয়া ও ফাহমি কানাডার নাগরিক। এছাড়া ২ ব্রিটিশ ও এক ডাচ সাংবাদিকসহ ১১ জনকে তাদের অনুপস্থিতিতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু'জন নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ছাড়া পান। ওই সাংবাদিকরা হলেন_ আলা বায়োমি, আনাস আবদেল ওয়াহাব খাওয়ালি হাসান, খলিল আলি খলিল বাহনাসি, মোহামেদ ফাওজি, দমিনিক কেইন এবং স্যু টারটন।
আদালতে সরকারপক্ষের কেঁৗসুলিরা জানান, আলজাজিরার পূর্ব আফ্রিকার প্রতিনিধি গ্রেস্টে এবং তার সহকর্মী ফাহমি মিসর ব্যুরো প্রতিনিধি ব্রাদারহুডকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে এবং মিসর পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের শাস্তির আবেদন জানানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে এই তিন বিদেশি সাংবাদিকসহ ২০ সাংবাদিককে গ্রেফতার করে মিসর। সে থেকে তাদের আটক রাখা হয়।
এ ঘটনায় মিসরের সেনা সমর্থিত সরকার গণমাধ্যমের ওপর তীব্র নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ শঙ্কা দেখা দেয়। সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ওই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছিলেন এসব সাংবাদিক। সিসি ক্ষমতা দখলের পর মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং 'সন্ত্রাসবাদী' সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ ব্রাদারহুড সমর্থক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।