রোনালদো বড্ড একা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লুই ফিগোর পাশে ডেকোরা ছিলেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে তেমন কেউ নেই। তাই হয়তো জ্বলে উঠতে পারেন না তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে কত অসাধারণ গোল করেন রোনালদো। অথচ পর্তুগালের পক্ষে গোল করেও জেতাতে পারেন না। দলে বড় একা তিনি। সে কারণেই জার্মানির কাছে চার গোল খেয়েছিল পর্তুগাল। রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নে তখনই ধাক্কা লাগে। গত রোববার পর্তুগিজ তারকার স্বপ্ন শেষ হতে হতে বেঁচে গেছে। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে পর্তুগাল। সমতা ফেরানো গোল করেন ভারেলা। তবে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনি শেষ মুহূর্তে অসাধারণ ক্রস না করলে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ত পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড্র করার পর এখন পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তারা। অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটা সহজ হবে না পর্তুগালের জন্য। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ঘানার বিপক্ষে খেলবে ২৬ জুন। এই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিততে না পারলে রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। 'জি' গ্রুপের যা সমীকরণ তাতে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জার্মানি। তাদের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত না হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে তারা। দুই ম্যাচ শেষে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। পর্তুগাল এবং ঘানার সংগ্রহ এক পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানি খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। এই ম্যাচটা ড্র হলে 'জি' গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে ঘানা এবং পর্তুগালকে বাদ পড়তে হবে।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ন্যানি গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগালকে। এরপর থেকে গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রথমার্ধে তারা সফল হয়নি। বরং ৪৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড দারুণ দক্ষতায় সেই প্রচেষ্টা রুখে দেন। খেলার ৫৫ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মাইকেল ব্রাডলে সেই সুযোগ নষ্ট করেন। আসলে নষ্ট নয়। গোলপোস্টের নিচে পর্তুগালের গোলরক্ষক বেতোর অনুপস্থিতিতে ব্রাডলের নেওয়া শট ফিরিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রিকার্ডো কস্তা। ৬২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পেতে পারতেন রোনালদোও। কিন্তু তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে খেলায় সমতা ফেরান জার্মেইন জোনস। ৮১ মিনিটে আরেকটি গোল করেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্লিন্ট ডেম্পসি। ম্যাচ শেষে যখন দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ঠিক তখনই রোনালদোর ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেড করে পর্তুগালকে বাঁচান ভারেলা। এই গোলে ম্যাচ ড্র হওয়ায় 'জি' গ্রপের চারটি দলেরই দ্বিতীয় পর্বে ওঠার সম্ভাবনা কাগজে-কলমে টিকে রইল। ২৬ জুন 'জি' গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ ক্লিন্সম্যান বলেন, 'অবশ্যই শেষ সেকেন্ডটা ছিল দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু ছেলেরা দুর্দান্ত খেলেছে। জার্মানির বিপক্ষে আমরা রেজাল্ট চাই।' যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঘানাকে পরাজিত করে। আর জার্মানরা বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল পর্তুগালকে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার সঙ্গে ড্র করে জার্মানরা। গত রোববার পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় 'জি' গ্রুপের সবার জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার দরজা খোলা রইল। ২৬ জুন শেষ দুটি ম্যাচ তাই চার দলের জন্যই বড় পরীক্ষা।