হতাশ করছে এশিয়া

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪      

ব্রাসিলিয়া স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে কিছুক্ষণ পরপর গো...ল গো...ল বলে চিৎকার। কাজের ফাঁকে ফাঁকে টেলিভিশনে খেলা দেখছেন আর এভাবে উল্লাস করছেন ক্যামেরুনের এক সাংবাদিক। তার ঘনঘন উল্লাসের কারণ, দক্ষিণ কোরিয়ার জালে আলজেরিয়ার বল পাঠানো। ২৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচের ৩৮ মিনিটে স্কোর ৩-০। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ৪-২ গোলে আলজেরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এশিয়ার আরেকটি বাজে দিন কাটল ব্রাজিল বিশ্বকাপে। নিজস্ব দেশ না হলেও আঞ্চলিকতার টানেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে অবস্থান ক্যামেরুনের ওই সাংবাদিকের। আলজেরিয়ার কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিধ্বস্ত হওয়ার উদাহরণ প্রতীকী মাত্র। ব্রাজিল বিশ্বকাপে এশিয়ার কোনো দেশই এখন পর্যন্ত ব্যতিক্রম কিছু করতে পারেনি। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর যেখানে দাপুটে পথচলা, সেখানে ধুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো।
২০০২ সালে ঘরের বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়েছিল তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার বদৌলতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম উঠাতে পেরেছিল এশিয়া। সহ-আয়োজক জাপান উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে এশিয়ার কোনো দেশকে না দেখার আশঙ্কাই বেশি। এশিয়ার কোনো দেশ যে এখনও জয়ের মুখ দেখেনি। সাও পাওলোতে মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদানকারী ফিফা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন নেপালিও ছিলেন। এশিয়ার দেশগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রথম হতাশা শুনেছিলাম তার মুখে_ 'এবার আমাদের মহাদেশের দেশগুলো মনে হয় না ভালো কিছু করতে পারবে।' দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইরান ও অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে দুটি করে ম্যাচ খেলেছে। ইরান, জাপান ও কোরিয়ার একটি করে ড্র। চার দলের তিনটি গ্রুপ পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে। একটি চতুর্থ স্থানে।
বিশ্বকাপের সর্বশেষ ৫ আসরের মধ্যে কেবল '৯৮ সালেই দ্বিতীয় পর্বে যেতে পারেনি এশিয়ার কোনো দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। তার আগের আসরে এশিয়ার পতাকা দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা এবার সবচেয়ে খারাপ। চিলি আর নেদারল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এশিয়ার পতাকা শেষ চার পর্যন্ত উড়িয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ সালে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখিয়েছিল তারা। আরেক সহ-আয়োজক জাপান উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত। '৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত এশিয়ার নাম লিখিয়েছিল সৌদি আরব। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা হয়নি কোনো এশিয়ার দলের। এবারও সে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবার ফাইটিং দল ইরান। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আর্জেন্টিনার সঙ্গে ধুন্ধুমার লড়াই করেছে ইরান। ইনজুরি সময়ে মেসি ঝলকের কাছেই হেরেছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। এমনকি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ না করলে ইরানের হাত ধরেই প্রথম জয়ের মুখ দেখত এশিয়া। কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে এখনও ঝামেলা চলছে। চাপের মুখে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এমন একটা ইস্যু সামনে রেখে এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে যেখানে জবাব দেবে, সেখানে মাঠে তারা অনুজ্জ্বল।
পাঁচটি দেশের মধ্যে একটিও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারলে সেটা হবে এশিয়ার ফুটবলের জন্য আরেকটি আঘাত।