ক্লিন্সম্যানের গড়া অন্য এক যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ফুটবলে তারা জোরালো কোনো শক্তি নয়। দেশটির প্রধান খেলা বেসবল। ফুটবলের জনপ্রিয়তা বলার মতো নয়। অধিকাংশ আমেরিকানই জানে না, তাদের দল বিশ্বকাপে কেমন করছে। বাস্তবে কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপে ভালোই খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে তারা ঘানাকে হারিয়ে অভিযান শুরু করে। যারা ভাবছেন ঘানা 'জি' গ্রুপের দুর্বল প্রতিপক্ষ, তাদের জন্য জার্মান ম্যাচের রিপ্লে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। এই বিশ্বকাপে জার্মানরা হট ফেভারিট। প্রথম ম্যাচে তারা পর্তুগালকে চার গোল দিয়েছিল। সেই জার্মানের সঙ্গে নিজেদের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করেছে ঘানা। কাজেই প্রথম ম্যাচে ঘানাকে হারানোটা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সামর্থ্যের পরিচয়। চলতি বিশ্বকাপে তাদের শক্তির আরও একটা প্রমাণ হতে পারে পর্তুগালের ম্যাচ। নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রায় জিতেই গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পারেনি কেবল ভারেলার জন্য। ম্যাচ শেষে যখন দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ঠিক তখনই রোনালদোর ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেড করে পর্তুগালকে বাঁচান ভারেলা। ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়। অথচ পিছিয়ে পড়ে ম্যাচটি প্রায় জিতেই যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্লিন্সম্যানের দলের বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ন্যানি গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগালকে। গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা করেও যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু প্রথমার্ধে সফল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড দারুণ দক্ষতায় পর্তুগালের আক্রমণ রুখে দেন। খেলার ৫৫ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মাইকেল ব্রাডলি সে সুযোগ নষ্ট করেন। গোলপোস্টের নিচে পর্তুগালের গোলরক্ষক বেতোর অনুপস্থিতিতে ব্রাডলির নেওয়া শট ফিরিয়ে দেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রিকার্ডো কস্তা। দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে খেলায় সমতা ফেরান জার্মেইন জোনস। ৮১ মিনিটে আরেকটি গোল করেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্লিন্ট ডেম্পসি। কিন্তু জয়টা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি তারা। না পারলেও ভালো খেলে তারা প্রমাণ করেছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার অন্যতম দাবিদার তারা। যুক্তরাষ্ট্র তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে জার্মানির সঙ্গে, যে ম্যাচ জেতার ঘোষণা দিয়ে ক্লিন্সম্যান বলেন, 'আমাদের ফাইটিং স্প্রিট আছে; শক্তি এবং প্রতিজ্ঞাও আছে। আমরা রেসিফে জার্মানিকে হারানোর আশা নিয়েই যাচ্ছি। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমি খুব আত্মবিশ্বাসী।'
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলে এই আত্মবিশ্বাস কিন্তু এক যুগ আগেও ছিল না। অথচ ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত দেশটির ফুটবল বেশ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু এর পরই শক্তি হারিয়ে ফেলে তারা। ১৯৯০ সালের দিকে আবার মাথা তুলে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল। ১৯৯৪ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এটাই সাম্প্রতিক কালের সেরা সাফল্য। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ১২তম হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারবে কি-না, তার জন্য ২৬ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই দিন 'জি' গ্রুপের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানদের মোকাবেলা করবে যুক্তরাষ্ট্র।