পাকিস্তানকে দুর্বল করছে ইমরানের আন্দোলন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

সমকাল ডেস্ক

গত বছরই ইমরান খান নিজেকে পাকিস্তানের রক্ষাকর্তা হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন জনতার সামনে। সাবেক এই প্লেবয় ক্রিকেটারের প্রতি পাকিস্তানিদের শ্রদ্ধা ছিল। যার জোরে তার সমাবেশগুলো তরুণ পাকিস্তানিতে ভরে উঠত। সেখানে তিনি দুর্নীতি, মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলা ও পুরনো আমলের রাজনৈতিক কায়দায় মাঠ উত্তপ্ত করে তুলতেন। নির্বাচনের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন বললে অনেকেই সেটা বিশ্বাসও করল। কিন্তু এখন ইমরানের সেই জনপ্রিয়তা তাকে ত্যাগ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইমরানের হঠকারী আন্দোলন পাকিস্তানকে আরও দুর্বল করে তুলবে। খবর :নিউইয়র্ক টাইমস। গত বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে ১১ দিন আগে রাজধানী ইসলমাবাদে হাজারো সমর্থককে জড়ো করেন ইমরান। কিন্তু তার দল পিটিআই যতটা আশা করেছিল তত লোকের সমাগম হয়নি। আন্দোলনের কর্মসূচি পালনেও বিশৃঙ্খলা ও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। প্রতিদিনই নিজের সুরক্ষিত কনটেইনারের ওপর দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ইমরান। তার ডাকে রাজধানীতে জড়ো হওয়া লোকজন রাস্তায় ঘুমিয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় ইমরান বেছে নিলেন ভিন্ন কৌশল। আন্দোলন শুরুর ক'দিনের মধ্যেই তিনি কর না দেওয়ার আহ্বান জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়ার হুমকি দিলেন। এমনকি পার্লামেন্ট থেকে দলীয় এমপিদের পদত্যাগ করালেন। এক সাক্ষাৎকারে নিজেকে মহাত্মা গান্ধী ও অষ্টম শতকের মুসলমান সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদের সঙ্গেও তুলনা করলেন ইমরান। এত কিছু সত্ত্বেও বাকি রাজনৈতিক দলগুলো এবং পাকিস্তানের বেশির ভাগ মিডিয়া তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। রাজনৈতিক রক্ষণশীল পত্রিকা দ্য নেশন লিখল 'ঘরে ফিরে যাও ইমরান'। আরেকটি পত্রিকা তাকে 'পাকিস্তানের সারা পলিন' (মার্কিন নারী রাজনীতিক) আখ্যা দিল।
ইমরানের আন্দোলনকে কেন্দ্র পাকিস্তান সেনাবাহিনী সুযোগ নিতে পারে, এমন একটা আশঙ্কা ছিল। বিশেষত তাহিরুল কাদরির দল ইমরানের সঙ্গে সমান্তরালে আন্দোলনে নামায় এ সংশয় জোরালো হয়। তবে খুব কম পাকিস্তানিই এখন সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করে। তবে এ সংকট নওয়াজকে দুর্বল করে দেবে। ভারত সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ভাগ্য নির্ধারণ ইত্যাদি নিয়ে এমনিতেই তার সঙ্গে জেনারেলদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনীতি বিশ্লেষক আমির মতিনের মতে, 'ইমরান গোটা রাজনৈতিক শ্রেণীকে দুর্বল করে দিয়েছেন। সরকারকেও কাবু করেছেন তিনি। কোনো কিছু না করেই সামরিক বাহিনী এখন তার এজেন্ডা পূরণ করতে পারবে।'
ঘন ঘন সামরিক অভ্যুত্থানের রেকর্ড থাকা দেশটিতে বেশির ভাগ লোকই উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে, ইমরানের এই রাজনীতি পাকিস্তানের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তার আন্দোলনের এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী এক বিবৃতি দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পেঁৗছার তাগিদ দেয়। আন্তর্জাতিক মহল অসাংবিধানিক কোনো পরিবর্তন মেনে না নেওয়ার পক্ষে বিবৃতি দেয়। ইমরানের কিছু বক্তব্য তার দলের ভেতরেই ক্ষোভ সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক শত্রুদের তিনি তালেবানের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। যাতে তালেবান তাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারে। তিনি পাকিস্তানিদের কর ও বিদ্যুৎ বিল না দিতে বললেন। অথচ খুব কম পাকিস্তানিই কর দেন। গোটা দেশই বিদ্যুৎ ঘাটতিতে অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইসলামাবাদে তার কর্মীরা যখন বৃষ্টিভেজা রাস্তায় রাত্রিযাপন করছে, তখন তিনি নিজের ভিলায় যান বিশ্রাম নিতে।