১৩২ বছর পর সৌর প্রজাপতি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪      

আরিফুল নেহাল, জাবি

১৩২ বছর পর বাংলাদেশে জঙ্গলগ্গ্নোরি নামে সৌর প্রজাপতি শনাক্ত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার। তিনি নিজেই সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩০ মার্চ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রজেক্ট 'আইইউসিএন আপডেটিং স্পেসিস রেডলিস্ট অব বাংলাদেশ'-এর সঙ্গে একটি প্রজাপতিবিষয়ক গবেষক দল নিয়ে বান্দরবানের থানচির গহিন বনাঞ্চল থেকে এ বিরল সৌরশক্তিসমৃদ্ধ প্রজাপতিটি আবিষ্কার করেন ড. মনোয়ার। গবেষক দলে বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশারদ ড. রেজা খানও উপস্থিত ছিলেন। দেড়শ' বছরের পুরনো জার্নাল ও বিভিন্ন বই ঘেঁটে এ আবিষ্কারের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে এতদিন
সময় লেগেছে বলে জানান ড. মনোয়ার।
প্রজাপতিটি এ দেশে ১৮৪৫ সালে সিলেটে প্রথম শনাক্তকরণ করেন বিজ্ঞানী ডাবলডে (উড়ঁনষবফধু)। পরে ১৮৮২ সালে ব্রিগেডিয়ার মার্শাল ও নেসেভিলে পুনরায় সিলেটের বনাঞ্চল থেকে দ্বিতীয়বার শনাক্ত করেন। এর পরে এ দেশে ১৩২ বছর ধরে এটিকে অন্য কোনো গবেষক দল (বিদেশি ও দেশি) শনাক্ত করার রেকর্ড নেই বলে জানান ড. মনোয়ার।
এই প্রজাপতির ডানার দৈর্ঘ্য ৯৫-১১৫ মিলিমিটার এবং দেখতে গাঢ় বাদামি রঙের। ওপরের পাখায় উজ্জ্বল গাঢ় নীলাভ রঙের রশ্মির দুটি ছটার বিচ্ছুরণ চোখে পড়ে। প্রজাপতিটি জোরে জোরে ঝাঁকি দিয়ে দিয়ে জঙ্গলের পাতা ও ছোট ছোট কাণ্ডের মাঝখান দিয়ে উড়ে চলে। তবে বাংলাদেশে এর জীবনচক্র ও অন্যান্য জৈবনিক কার্যক্রম এখনও অজানা।
জাপান ও চীনের একদল বিজ্ঞানী ২০০৯ সালে একই প্রজাতির প্রজাপতি নিয়ে সৌরশক্তিবিষয়ক (সৌরকোষীয়, চযড়ঃড়হরপ ঝঃৎঁপঃঁৎব) গবেষণা করেছেন। তারা দেখিয়েছেন, এই প্রজাপতির পাখার স্কেলের গঠন ও রঙের সৌরশক্তি ধারণ, এবং তা থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা তাদের অতিদ্রুত ওড়ার জন্য ও মাংসপেশি সঞ্চালনের জন্য সহায়ক। বিজ্ঞানীরা এ প্রজাপতির পাখার স্কেলের গঠন ও রঙের বিন্যাসকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও অন্যান্য সৌরশক্তি প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য কাজ করে সফলতা অর্জন করেছেন। সামরিক যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটাকে ব্যবহারের জন্য গবেষণা চলছে।
ড. মো. মনোয়ার বলেন, বাংলাদেশে ৩০০টির বেশি প্রজাপতি আবিষ্কার হয়েছে। দেশে এখনও অনেক প্রজাপতি আবিষ্কারের বাইরে আছে। এ ধরনের প্রজাপতি আবিষ্কার ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা দেশের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও অপরাপর সৌরশক্তির প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে দেশকে সমৃদ্ধ করতে পারি। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়ন এ গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুবই জরুরি।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণীবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে বাংলাদেশের সাতজন বিজ্ঞানী কাজ করছেন। এর মধ্যে ড. মনোয়ারসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।