নবজাতকের যত্ন-আত্তি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০১৫      

নবজাতকের জন্য আদর থাকুক শত, কিন্তু যত্নে কোনো কমতি হলে চলবে না। সতর্কতাই পারে নবজাতককে সুস্থ রাখতে
অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, নবজাতকের যত্ন কীভাবে নেবেন। বিশেষ করে নতুন বাবা-মা এটা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েন। বন্ধু, আত্মীয়স্বজন_ অনেকের কাছ থেকেই পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কিন্তু সঠিক পরামর্শ না পেলে অনেক বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারেন আপনিও। কী করবেন এবং কী করা উচিত নয়, তা নিয়ে জানাচ্ছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এবং নবজাতক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমএস খালেদ।
প্রাথমিক করণীয় :জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। আর হাসপাতাল ছেড়ে আসার আগে নার্স ও ডাক্তারের কাছ থেকে যাবতীয় পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে বুঝে নিন। যদিও এটি ডাক্তারের কাজের মধ্যে পড়ে, তবু খোঁজ নিন জন্মের পরই শিশু কেঁদেছে কি-না। যেমন আবহাওয়াই থাকুক না কেন, শিশুকে অবশ্যই আরামদায়ক উষ্ণতায় রাখতে হবে। নাভির দিকে লক্ষ্য রাখুন, যেন আঘাত না পায়। সময়মতো টিকা দেওয়ার প্রতি খেয়াল রাখুন। হাতে নখ হলে সাবধানে কেটে নিতে হবে। নইলে শিশু নিজেকেই আঁচড়ে দিতে পারে।
অতিথি এলে :নবজাতককে দেখতে অনেকেই আসেন। নবজাতক এই সময় অনেকটা সেনসেটিভ থাকে। তাই তাকে কোলে নেওয়া অথবা কাছে আসার ব্যাপারে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখা ভালো, নবজাতকের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকে, তাই জীবাণু সহজেই আক্রমণ করে। এ জন্য ধরতে চাইলে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। শিশুকে কোথাও নেওয়া হলে বা ওপর থেকে নিচ করার সময় মাথা ও ঘাড়ের নিচে হাত দিতে হবে। ঝাঁকুনি যাতে না লাগে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে মস্তিষ্কে রক্তপাত ঘটে। তাই কোলে তোলার আগে শিশুকে নরম কাপড় বা তোয়ালের ওপর নিন। যখনই কোলে নেবেন, নবজাতকের হাতে যেন কোনো শক্ত আংটি, চুড়ি বা অন্য কিছু পরা না থাকে। এতে নবজাতক ব্যথা পেতে পারে। শিশুর আশপাশে যারা থাকবেন, তারা সব সময় হাতের নখ ছোট রাখুন।
গোসল পর্ব :বিশেষজ্ঞরা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে গোসল দেওয়া ঠিক নয়। শীতের সময় অন্তত দু'সপ্তাহ অপেক্ষা করা উচিত। বড়জোর পাতলা ও নরম সুতি কাপড়ে হাত-পা এবং মুখ মুছে দিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের পরে নবজাতককে গোসল করানোর সময় বেশ সাবধান থাকতে হবে। চেষ্টা করুন মাথা, মুখ বা কানের আশপাশে পানি না ঢালার। এতে কানে বা নাকে পানি প্রবেশ করতে পারে। তাই কুসুম গরম পানিতে সুতির নরম কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়াই ভালো।
বিপদ চিহ্ন :কিছু লক্ষণ আছে, যা দেখলে বোঝা যায় নবজাতক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু এগুলো না জানা থাকলে মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন কেউই বুঝতে পারে না। ফলে বিপদ ঘটে। এগুলো হলো_
ঙ্ জন্মের পর শ্বাস না নেওয়া;
ঙ্ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া;
ঙ্ শরীরের তাপ বৃদ্ধি পাওয়া;
ঙ্ খিঁচুনি হওয়া;
ঙ্ নাভি লাল, পুঁজ ও দুর্গন্ধ হওয়া;
ঙ্ নেতিয়ে পড়া, স্বাভাবিকের চেয়ে কম নড়াচড়া করা;
ঙ্ খাওয়ানোর সমস্যা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

লেখা : নিশাত তানিয়া
মডেল : তাসনিন কাবির
ছবি : সঞ্জয় বণিক