মূলত কাঠের জন্যই গামারির খ্যাতি। কাঠগাছ হিসেবে গামারির নামটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। তবে কাঠের নাম জানা থাকলেও গাছ আমাদের অনেকের কাছেই অচেনা। কারণ, গামারির প্রিয় আবাস পাহাড়ি এলাকা। এ কারণে সমতলে খুব একটা দেখা যায় না। ইদানীং মহাসড়কগুলোর পাশে দু-চারটি করে গাছ লাগানো হচ্ছে। নিশ্চিত করে বলা যায়, যদি কেউ অন্তত একবার গামারির প্রস্ফুটন প্রাচুর্য উপভোগ করার সুযোগ পান, তাহলে তিনি ফুলটির প্রেমে পড়বেন নিশ্চিত। গামারি ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জহুরুল হক হল সম্মুখ পথপাশ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়।
গামারি বেশ উঁচু ধরনের গাছ। কাণ্ড সরল,
উন্নত ও প্রায় সাদা রঙের। শাখা ঊর্ধ্বমুখী হলেও প্রশাখান্ত কিছুটা নুয়ে থাকে। পাতা বেশ বড়, দেখতে পানের মতো। ডালের দু'পাশে সমভাবে বিন্যস্ত থাকে। উপরিভাগের রং ঘন-সবুজ, নিচটা পা ুর। গামারির পাতা ঝরানোর মৌসুম শীতকাল। ফাল্গুনের প্রথমভাগেই পাতাহীন ডালপালায় নামে পুষ্প-পাবন। ফুলের রং বাদামি-হলুদ, পাপড়ি রোমশ, দ্বিধাবিভক্ত ও সুগন্ধি। ফুল ঝরে পড়ার পরপরই আসে ফল। গোলাকার পরিপকস্ফ ফলের রং ম্লান-হলুদ। ফল পাকার মৌসুম গ্রীষ্মকাল। দারুমূল্যের দিক থেকে সেগুন কাঠের পরপরই গামারির স্থান। গামারি ভেষজগুণেও অনন্য। এর শিকড় পেট ব্যথা, দাহ ও জ্বরে ব্যবহার্য। ফল কুষ্ঠ, চর্মরোগ, রক্তদোষ ও চুল ওঠার ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। গামারি সবচেয়ে ভালো হয় আমাদের দেশের সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়।


মন্তব্য করুন