আজকের পত্রিকা

জীবন এবং খেলা

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০১৫     আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৫

মাহফুজুর রহমান মানিক


বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে অন্তত খেলার পরিভাষাগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। এর সঙ্গে মানুষের জীবনের পরিভাষার অনেক মিল। খেলার সঙ্গে এ রকম নানা মিল থেকেই হয়তো জীবনকেও একটি খেলা হিসেবে দেখেন অনেকে। একে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতে, বলতে, লিখতে 'জীবনখেলা' হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। অস্বীকার করার উপায় নেই, খেলায় জয়-পরাজয় আছে; জীবনেও আছে। ক্ষণে ক্ষণে খেলার রঙ বদলায়; জীবনেরও বদলায়। খেলায় কেউ হিরো, কেউ জিরো; জীবনেও তা-ই। কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেন, কেউ পারেন না; জীবনেও এ রকম। কেউ ঝড়ো ইনিংস খেলেন, কেউ গুটি গুটি পায়ে এগোন; জীবনেও তা দেখা যায়।

জীবনের সঙ্গে খেলার যে এ রকম আরও কত মিল! ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বোলার আক্রমণের দায়িত্বে থাকেন। ব্যাটসম্যান যে তার প্রতিপক্ষ; বাস্তব জীবনেও তো প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে মানুষ। হয়তো খেলার মতোই একজন আরেকজনকে হারিয়ে টিকে থাকেন। খেলায় কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, কেউ দুর্বল; বাস্তবেও তা-ই। খেলায় দুই দলের যুদ্ধ দেখে অন্যরা হাসে কিংবা কাঁদে; জীবনেও এমন। খেলায় বিচারক থাকেন; বাস্তবেও তা রয়েছে।

কেবল ক্রিকেটেই নয়, প্রত্যেকটি খেলার সঙ্গেই এসব মিল দেখা যায়। দাবা খেলায় যেমন চাল আছে, জীবনেও আছে। জালে বল ফেলা ফুটবল খেলার লক্ষ্য, জীবনেও এ রকম লক্ষ্য থাকে। কেউ তো বলেন, জীবন আসলে ম্যারাথন দৌড়। প্রত্যেকটি খেলায় যেমন শুরু ও শেষ আছে, ঠিক তেমনি জীবনেরও। খেলায় রিস্ক থাকে, জীবনেরও আছে। ইংল্যান্ডের অলিভার এমবার্টন নামে এক লেখক ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে জীবন যে একটি খেলা সে উদাহরণ দিতে প্রোগ্রামিংকেও টেনেছেন। তিনি বলছেন, প্রোগামিং কিছু পান করার মতো। এখানে কোডিং করার ক্ষমতা হলো স্বাস্থ্য। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়াটা শরীরের শক্তি। আর প্রোগ্রামিংয়ের লজিক হলো টাকা।

এই যে জীবন আর খেলার এত সাদৃশ্য, তাহলে জীবন কি আসলেই খেলা? উত্তরটা না। জীবনকে খেলার ফ্রেমে দেখলে হয়তো খেলাই মনে হবে। খেলাকে বরং আমরা বলতে পারি জীবনের মতো। অবশ্য অবচেতন মনে হয়তো তা-ই বলি। যেমন, খেলায় অনেকের আউট হওয়ার মতো অবস্থা হলে আমরা বলি, সে জীবন পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, আউট হলে কিন্তু আমরা বলি না, সে মরে গেছে। জীবনের সঙ্গে খেলার আসল পার্থক্য বোধ হয় এখানেই। খেলা নতুন করে শুরু করা যায়, কিন্তু জীবনে সে সুযোগ নেই। খেলায় দ্বিতীয় সুযোগ থাকলেও জীবনে তা অসম্ভব।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক ওভারে চার-ছয়ের সমন্বয়ে ৩৪ রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ভিলিয়ার্স রেকর্ড করেছেন। আবার আমাদের রুবেল হোসেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক ওভারে দুটি উইকেট পাওয়ার মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। বাস্তব জীবনে কিন্তু সফলতা বা ব্যর্থতা এত দ্রুত আসে না। এ রকম চার-ছয়ের মতো সফলতা ধরা দেয় না। এখানে ব্যক্তির সাধনা প্রয়োজন, প্রয়োজন পরিশ্রমের। তারই ফলস্বরূপ সফলতা আস্তে-ধীরে আসে। আবার দ্রুত আউট হওয়াও কোনোভাবেই মানব জীবনের সঙ্গে যায় না। এ জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। সবকিছু থেকে আলাদা। একে খেলার সঙ্গে তো নয়ই, কোনো কিছুর সঙ্গেই মেলানো অসম্ভব। যারা জীবনকে খেলা হিসেবে দেখছেন, তারা হয়তো উদাহরণ হিসেবেই এনেছেন। এর বাইরে কিছু কি? মনে হয় না। জীবন তো জীবনই।

mahfuz.manik@gmail.com