শিক্ষা সংবাদ

ভোকেশনাল কোর্সে স্কলারশিপ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০১৫      

ফারজানা আক্তার

মোহাম্মদ রেজাউল করিম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার রহমপুর গাঁয়ে থাকেন তিনি। ছোটবেলায় ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে শিক্ষার নগণ্য আলো দেখেছেন। তাই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন এক প্রকার নিভেই গেল। স্বল্প শিক্ষায় এ দেশে চাকরি করে বেঁচে থাকাটা এক প্রকার লড়াই বলা চলে। শিক্ষিত মানুষের যেখানে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে স্বল্প শিক্ষিত ব্যক্তির স্বপ্ন দেখাটা কঠিন ব্যাপার। তাই বলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবে না রেজাউল। বেঁচে থাকার সংগ্রামে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াকফের (আইডিবি-বিআইএসইডবিল্গউ) ভোকেশনাল ট্রেইনিং স্কলারশিপের আওতায় ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন ট্রেডে ছয় মাসের ফ্রি ট্রেনিং করে এখন তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। এই ট্রেনিংয়ের পর জীবন যেন এক নিমিষেই বদলে গেল। বদলে যাওয়া জীবন সম্পর্কে রেজাউল বলেন, 'আমি আগে ভয় পেতাম কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবো। কারণ আমার তেমন কোনো লেখাপড়া ছিল না। আর এখন আইডিবি-বিআইএসইডবিল্গউতে ট্রেনিং করে একটা কোম্পানিতে চাকরি করছি। এতে আমি সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য বেতন বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রতি মাসে আয় করছি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আমার হাতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকে।' শুধু রেজাউলই নন, তার মতো শহীদুল, আতাউর, বশীরসহ আরও অনেকেই এই ট্রেনিং নিয়ে স্বপ্ন বুননের কারিগর। তাদের মধ্যে বশীর আহমেদ মালেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রতি মাসে ৯৮ হাজার টাকা আয় করছেন।
আইডিবি-বিআইএসইডবিল্গউ ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কলারশিপ সম্পর্কে আইডিবি-বিআইএসইডাবিল্গউর প্রোগ্রাম অফিসার জাহিদ-আল-মাহাদী বলেন, 'আইডিবি-বিআইএসইডবিল্গউ ভোকেশনাল ফ্রি ট্রেনিং স্কলারশিপ ২০১২ সালে শুরু হয়। এখন পর্যন্ত এখানে ২৬০ জন বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেনিং নিয়েছেন এবং তারা সবাই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।' এই ট্রেনিংয়ে আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, 'অষ্টম শ্রেণী পাস, এসএসসি/দাখিল পাস এবং সর্বোচ্চ ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে এইচএসসি, স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পাস বা অধ্যয়নরত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।' এই ট্রেনিংয়ে কী ধরনের বা কোন কোন ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ-আল-মাহাদী বলেন, 'ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কলারশিপে আমরা ৪টি ট্রেডের ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। ট্রেডগুলো হলো_ ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, ইলেকট্রনিক্স এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং। এই ট্রেনিংয়ের আওতায় কী ধরনের সুবিধা প্রদান করা হয় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি উপযোগী সিলেবাস অনুসরণের মাধ্যমে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে থাকি।
এ ছাড়াও সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মাত্র ৫০ টাকায় ফরম পূরণ করা ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীকে আর কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। আমরাই প্রশিক্ষণ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করে থাকি। এবং মাসিক ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা প্রদান করে থাকি।' কীভাবে শিক্ষার্থীদের ট্রেনিংয়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়, এ ব্যাপারে মাহাদী বলেন, 'প্রথমে লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধা অনুসারে প্রার্থী বাছাই করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে সাধারণ দক্ষতা যাচাই করা হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। প্রার্থীর ফল মোবাইলে এসএমএস এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।' ছয় মাসের এই ভোকেশনাল ট্রেনিং প্রশিক্ষণে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। িি.িরফন-নরংব.িড়ৎম