হ নাহিদ তন্ময়
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে মোট মাদকাসক্তের অন্তত ২০ শতাংশ নারী। এসব নারী মাদকাসক্তের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে আবাসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন সেবা থাকলেও তা অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকলজ্জা ও সামাজিকতার ভয়ে নারীদের মাদকাসক্তির বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে বেসরকারি উদ্যোগে যেসব কেন্দ্র চিকিৎসা দিচ্ছে, সেখানেও খুব বেশি মানুষ সেবা নিতে যান না।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা সেবনকারী নারীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। নারী মাদকাসক্তের সংখ্যার সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারণা, মোট মাদকাসক্তের ১৫ থেকে ২০ শতাংশই নারী। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর'বি) পরিচালিত ২০১২ সালের এক জরিপে জানা যায়, দেশে মাদকাসক্তের মধ্যে ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ২০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। অর্থাৎ মোট মাদকাসক্তের পাঁচ ভাগের এক ভাগ নারী। এ ছাড়া জাতিসংঘের এক জরিপ প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশে ৬৫ লাখ মাদকাসক্তের মধ্যে ১৩ লাখের বেশি নারী কোনো না কোনো মাদক সেবন করছেন।
১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলকভাবে বিনা খরচে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করানোর দায়িত্ব সরকারের। চিকিৎসায় পুরুষের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও নারীদের জন্য নেই। এ ছাড়া জেলা অনুযায়ী মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির বিধান থাকলেও তা কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, মাদকাসক্তের সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। পুরুষদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও নারী মাদকাসক্তদের আবাসিক চিকিৎসার সুযোগ একেবারেই নেই। তবে দিন দিন নারী মাদকাসক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালুর বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে ২৫০ শয্যার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। এখানে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে মাত্র ১০টি বেড, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তবে এখানে বহির্বিভাগে নারী মাদকাসক্তরা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটি স্থাপনের সময়ই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জনবলও চাওয়া হয়নি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর চিত্রও একই রকম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব কেন্দ্রে কেবল বহির্বিভাগে সেবা দেওয়া হয়।
২০০৯ সাল থেকে মানিকগঞ্জে আসক্তি পুনর্বাসন নিবাস 'আপন' নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। কেন্দ্রে ২৫ জন নারীর আবাসিক সুবিধা আছে। দেশে প্রথমবারের মতো নারী মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান চালু করেছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের এ-ব্লকের ১০/২ নম্বর বাড়িতে চালু করা এ কেন্দ্রে নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন