'আমরা আবদুল্লাহ জুবায়ের অনিক ও জাকির হোসেন মুন্নাকে ফেরত চাই। তাদের সন্ধান চাই।' ফেসবুকে একটি পেজ খুলে এভাবেই অনিক ও মুন্নার খোঁজে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের বন্ধু ও স্বজনরা। সন্ধান চেয়ে প্রায়ই মানববন্ধন করছেন পরিচিতজনরা। রাঙামাটি সীমান্ত এলাকা থেকে গত বছরের ৩ অক্টোবর অপহরণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনিক ও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মুন্নাকে। একই সঙ্গে অপহরণ করা হয়েছিল তাদের দু'জন গাইডকেও। অপহরণের চার মাস পার হলেও দুই পর্যটকসহ এখনও চারজনের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা আশায় বুক বেঁধে আছেন- যে কোনো সময় তাদের সন্ধান মিলবে। টাকা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অনিক ও মুন্নাকে অপহরণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারেও অন্ধকারে প্রশাসন। তাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, তা আপাতত কারও জানা নেই। এমন বাস্তবতায় স্বজনরা বলছেন, মুক্তিপণের জন্য ফোন এলেও অন্তত ধারণা পেতাম- তারা বেঁচে আছেন। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর নেই সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও।
অপহৃতদের স্বজন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফাররুয়া ইউনিয়নের বড়থলি গ্রামের নতুন পুকুর এলাকা থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন মুন্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন এমবিএর ছাত্র আবদুল্লাহ জুবায়ের অনিকসহ ছয়জনকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতদের মধ্যে আরও ছিলেন স্থানীয় দুই গাইড মানছাই ম্রো ও লাল রিং ছাং বম এবং স্থানীয় বাসিন্দা অভিরাং ত্রিপুরা ও মনীন্দ্র ত্রিপুরা। তাদের মধ্যে অভিরাং ও মনীন্দ্রকে ওই রাতেই ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। ওই সময় অপহৃতদের খোঁজে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকবার উদ্ধার অভিযানও চালায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
চলতি মাসের প্রথমদিকেই বান্দরবানে গিয়ে ছেলের সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে আসেন অনিকের বাবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা আবদুর রব
। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
ব্যবসায়ী মুন্নার বড় বোন নাসিমা আক্তার শিমুল সমকালকে বলেন, 'আমরা চাই সরকার আমার ভাইকে ফিরিয়ে আনুক।'
মুন্নার স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা সমকালকে বলেন, দুই মেয়ে প্রায়ই বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমার স্বামী কোথায় কীভাবে আছে কিছুই জানি না। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে।
রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান সমকালকে বলেন, অপহরণের পর পরই সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সম্মিলিতভাবে অভিযান চালিয়েছে। তবে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এখনও অভিযান অব্যাহত আছে। অপহরণের মোটিভ সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন