'সর্বমানবতার বৈশ্বিক যোদ্ধা'

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল ডেস্ক

বিশ্বের লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শেষ বিদায়ে অভিষিক্ত সর্বমানবতার বৈশ্বিক যোদ্ধা কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলে শুক্রবার তার বিদায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে কেভ হিলের সমাধিতে দাফন করা হয় 'দি গ্রেটেস্ট'কে। সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মোহাম্মদ আলীর কফিন বহনকারী গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় লুইসভিলের রাস্তায় তাকে শেষ দেখা দেখতে দাঁড়িয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। খবর এএফপির।
লুইসভিলে কোরআন পাঠ দিয়ে শুরু হয় মোহাম্মদ আলীকে শ্রদ্ধা আর স্মরণের অনুষ্ঠান। এর পর মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদিসহ বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন। তারা মোহাম্মদ আলীর খেলা, সামাজিক ও রাজনৈতিক অর্জন, শান্তি ও মানবাধিকার অর্জনে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সব সময় ন্যায় ও নীতির পক্ষে আলীর শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, আমাদের প্রত্যেকের অন্তরেই আলী সম্পর্কে একটি করে গল্প আছে। এটি আমাদের জন্য উপহার, এই আলীর গল্পকে আমাদের সম্মান জানানো উচিত। তিনি বলেন, আলী ছিলেন আমাদের সর্বমানবতার বৈশ্বিক যোদ্ধা। আমি তাকে সর্বদাই সত্যিকার মুক্তবিশ্বাসের মানুষ বলে মানি।
পঞ্চাশটির বেশি দেশ থেকে বিশ্বের ক্রীড়া, বিনোদন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নিয়েছেন এই মুষ্টিযোদ্ধার শেষকৃত্যে। অনুষ্ঠানে থাকতে না পারলেও এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আলীকে বিশাল, উজ্জ্বল আর তার যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন পার্কিনসন রোগে ভুগে গত ৩ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৭৪ বছর বয়সী আলী।
এর আগে জন্মশহর লুইসভিলে মোহাম্মদ আলীর কফিনবাহী গাড়িবহরের যাত্রা শুরু হয়। ১৮টি গাড়ির এ বহর শহরের ৩০ কিলোমিটার রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিবিজড়িত কিছু স্থান; যেমন_ শৈশবের বাড়ি, আলী সেন্টার, দ্য সেন্টার ফর আফ্রিকান আমেরিকান হেরিটেজ, মোহাম্মদ আলী বুলভার্ড অতিক্রম করে শোভাযাত্রাটি।
এ সময় রাস্তাার দু'ধারে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভক্তরা।