যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের চেয়ে কানাডার জেল ভালো

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

সমকাল ডেস্ক

ট্রাম্পের 'গ্রেট আমেরিকা' এখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী হতাশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পার হয়ে কানাডা যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলের ভয়ও তাদের থামাতে পারছে না। তাদের কাছে এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের চেয়ে কানাডার জেলকেই ভালো মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিলেও নাগরিকত্ব পাচ্ছেন না হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। একই কারণে নিজ দেশে ফেলে আসা স্বজনদেরও যুক্তরাষ্ট্রে আনার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। হতাশ এসব নাগরিক এখন কানাডা অভিমুখী হচ্ছেন। তারা জানেন, সীমান্তে পুলিশ গ্রেফতার করবে, জেল হবে। তবে তাদের আশা, নাগরিকত্বের আবেদন করলে সাড়া পাওয়া যাবে এবং এক পর্যায়ে স্বজনদেরও কানাডায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত লাগোয়া রোক্সাম রোডে অপেক্ষা করছেন ফ্রেডারিক। লক্ষ্য পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কানাডার সীমান্ত এলাকায় ঢুকে পড়া। কাজটা আইনিভাবে অবৈধ। কানাডীয় সীমান্ত পুলিশও ঠিকই ওত পেতে আছে। পার হলেই গ্রেফতার হতে হবে। গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রেডারিকের মতো আরও হাজার হাজার মানুষ এখানে এসেছেন। লক্ষ্য কানাডার কুইবেক। সীমান্ত অতিক্রম তাদের প্রথম পদক্ষেপ। এর পরই জেলে গেলেও সেখান থেকেই তারা কানাডায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। ফ্রেডারিকের আশা, এমন হলে তার পরিবারের সদস্যদের কানাডায় নিয়ে আসার একটা সুযোগ হয়তো পাওয়া যাবে। ফ্রেডারিক দারিদ্র্যপীড়িত হাইতির নাগরিক। নিজের পরিবারের সঙ্গে ১৭ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন। ফ্রেডারিকের আশা, নিজের নাগরিকত্ব একবার নিশ্চিত হলে পরিবারের সদস্যরাও আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন এবং পর্যায়ক্রমে কানাডার নাগরিকত্ব পাবেন। ফ্রেডারিকের সঙ্গে রক্সাম রোডে এ মুহূর্তে আরও ৩০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর একটি দীর্ঘ স্রোত। পিঠে তাদের নিজের সর্বস্ব- অবশিষ্ট সহায়-সম্বল। ২০১০ সালে কলেরা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে একমুঠো খাবারের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ছুটতে থাকে হাইতিরা। সে সময় হাইতির অন্তত ৫৯ হাজার নাগরিক ফ্রেডারিকের মতো যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক বসবাসের সুযোগ পান। কিন্তু গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় যাওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে আর ওই সাময়িক আশ্রয়ের সময়সীমা বাড়াতে চায় না। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ওই অস্থায়ী বসবাসের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। তাদের আশঙ্কা, এরপর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দরিদ্রজর্জর অন্নজলহীন হাইতিতে ফিরতে বাধ্য করবে। ফ্রেডারিক জানালেন, আমি ভয়ের মধ্যে আছি। প্রতিদিনই আতঙ্কের সংবাদ পাচ্ছি। আর সে কারণেই আমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কানাডায় প্রবেশের চেষ্টা করছি।
কানাডার সীমান্ত পুলিশ জানায়, ২৪ ঘণ্টার পাহারা সত্ত্বেও গত ছয় সপ্তাহে ৭ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী কানায় প্রবেশ করেছেন। আগস্টের প্রথমার্ধেই প্রবেশ করেছে প্রায় চার হাজার।