এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা :পর্ব-২৭

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

বাক্য কাকে বলে?

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
ঢাকা


প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। তোমাদের জন্য এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আলোচনা করা হচ্ছে। তোমরা এগুলো সংগ্রহে রাখবে এবং নিয়মিত অনুশীলন করবে।
(গত আলোচনার পর থেকে)

৪. অ আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরের ষ-প্রত্যয়ের স থাকলে তা ষ হয়। যেমন :ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৫. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ষ হয়। যেমন :আষাঢ়, ষোড়শ, ভাষা, পাষাণ ইত্যাদি।
৬। অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণীবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা কর।
উত্তর : অর্থানুসারে শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। নিম্নে সে সম্পর্কে আলোচনা করা গেল :
ক) যৌগিক শব্দ : যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন_
* গায়ক = গৈ+অক _ অর্থ :গান করে যে।
* কর্তব্য = কৃ+তব্য _ অর্থ :যা করা উচিত।
* মধুর = মধু+র _ অর্থ :মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত ইত্যাদি।
খ) রূঢ়ি শব্দ :প্রত্যয়, উপসর্গ, সন্ধি প্রভৃতি নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পরিত্যাগ করে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে, রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন_
* হস্তী = হস্ত+ইন, অর্থ_হস্ত আছে যার; কিন্তু 'হস্তী' বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
৭। বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার? উদাহরণসহ আলোচনা কর।
উত্তর :বাক্য : যেসব বিন্যস্ত পদ সমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন_ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার ছিলেন।
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য :
বাক্যকে সার্থক করতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়_
পরিশেষে বলা যায়, একটি বাক্য তখনই সহি এবং নির্ভুল হিসেবে প্রকাশ পায়, যখন তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতার উপস্থিতি দেখা যায়। আর এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতিতে সঠিক এবং অর্থবোধক বাক্য গঠন অসম্ভব।
১। আকাঙ্ক্ষা :
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন :'আমরা কলম দিয়ে ... ' বললে শ্রোতার আগ্রহ সম্পূর্ণ মেটে না। কিন্তু 'আমরা কলম দিয়ে লিখি' বললে অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় এবং আকাঙ্ক্ষারও নিবৃত্তি হয়। শেষোক্ত 'লিখি' পদটি শোনার ইচ্ছাই আকাঙ্ক্ষা।
২। আসত্তি :
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ-বিন্যাসকেই আসত্তি বলে। মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে বাক্যে শব্দগুলোকে এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে, যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। যেমন_ 'শফিক সাহেব তিরস্কার ছেলেকে দুষ্টুমির করলেন জন্য'। এ বাক্যে আসত্তির গোলমালের জন্য মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে নিম্নোক্তভাবে সাজালে বাক্যটিতে আসত্তি লক্ষ্য করা যায়_ 'শফিক সাহেব দুষ্টুমির জন্য ছেলেকে তিরস্কার করলেন।'
৩। যোগ্যতা :
বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন পদের অর্থ ও ভাবগত মেলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে। যেমন :'সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে'_ এ বাক্যে বিভিন্ন পদের মধ্যে অর্থ ও ভাবগত মিল নেই। কারণ সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে না। যদি বলা হয়, 'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে'_ তাহলেই বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।
(বাকি অংশ পরে প্রকাশিত হবে)