প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি :পর্ব-১০৬

বায়ু কীভাবে দূষিত হয় তা আলোচনা কর

প্রাথমিক বিজ্ঞান

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

এবিএম আখতার হোসেন সিনিয়র শিক্ষকবিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলাঢাকা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে ধারাবাহিকভাবে অধ্যায়ভিত্তিক অনুশীলনীর সব প্রশ্নের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা করা হচ্ছে। পাঠশালায় প্রকাশিত কপিগুলো সংগ্রহে রেখে নিয়মিত অনুশীলন করবে।
(গত আলোচনার পর থেকে)
চতুর্থ অধ্যায় : বায়ু
অনুশীলনীর প্রশ্নের উত্তর :
রান্নাঘরের এ বিষাক্ত গ্যাসের দূষণ কমানোর জন্য আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারি।
রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
উন্নত ও পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার করা।
প্রয়োজন ছাড়া চুলা জ্বালানো থেকে বিরত থাকা।
জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধ করা।
ধোঁয়া তৈরি হয় এমন জ্বালানি ব্যবহার রোধ করা।
৪. ইটের ভাটার দূষণের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়?
উত্তর : ইটের ভাটা থেকে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। এ রকম ধোঁয়ায় থাকে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন কণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড। এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ দূষণের প্রভাব কমানোর জন্য আমরা_
ইটের ভাটা লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করতে পারি।
ইটের ভাটায় চিমনির ব্যবহার করা যেতে পারে।
দূষিত ধোঁয়া বায়ুতে মেশার পূর্বে পরিশোধনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কয়লার ব্যবহার কমিয়ে অন্য কোনো পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাড়ি-ঘর তৈরিতে ইটের পরিবর্তে সিমেন্ট বা অন্য কোনো উপাদান দিয়ে তৈরি ইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. কোথায় কোথায় বায়ু আছে?
উত্তর : আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে আছে বায়ু। বায়ুর এই আবরণকে বলে বায়ুমণ্ডল। আবার মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে বায়ু থাকে। পানিতেও বায়ু মিশে থাকে। পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ু।
রচনামূলক প্রশ্ন :
১. বায়ু প্রবাহকে আমরা কী কী কাজে ব্যবহার করতে পারি?
উত্তর : বায়ু প্রবাহকে আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারি। নিচে এগুলো দেওয়া হলো :
বায়ু প্রবাহকে ব্যবহার করে বড় চরকা বা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে ফসল ঝেড়ে ময়লা দূর করা হয়। বায়ুর প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে পালতোলা নৌকা চালানো হয়।
গরম থেকে রক্ষা পেতে পাখা বা বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে বায়ুর ব্যবহার করে আমরা শীতল হই।
এ ছাড়া ঘুড়ি উড়ানো, ভেজা কাপড় শুকানো, লম্বা ভেজা চুল সহজে শুকানো_ সবক্ষেত্রেই আমরা বায়ুপ্রবাহকে ব্যবহার করতে পারি।
২. বায়ু কীভাবে দূষিত হয় তা আলোচনা কর।
উত্তর : বায়ু প্রধানত দূষিত হয় মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে। কীভাবে বায়ু দূষিত হয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো :
ষইটের ভাটা, কলকারখানা, বাস, রেলগাড়ি, টেম্পো, বেবিট্যাক্সি থেকে কালো ধোঁয়া বাতাসে মেশে। এ রকম ধোঁয়ায় থাকে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন কণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড। এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এ রকম কালো ধোঁয়া মিশলে বায়ুদূষণ হয়।
ষরান্নাঘরের চুলায় প্রাকৃতিক গ্যাস বা কাঠ পোড়ানোর সময় পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে তা ভালোভাবে পোড়ে না। ফলে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড বেশ বিষাক্ত। এটির মাধ্যমেও বায়ুদূষণ হয়।
ষ কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষিত হয়।
ষ বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।
ষ যক্ষ্মা ও বসন্ত রোগীদের হাঁচি-কাশি থেকে জীবাণু মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
ষ যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেললে ও পায়খানা-প্রস্রাব করলে বায়ুতে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এভাবেও বায়ু দূষিত হয়।
আবার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বানানোর সময় ছোট ছোট ধূলিকণা বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে।
৩. বায়ুর উপাদানগুলো আমাদের বেঁচে থাকতে কীভাবে সাহায্য করে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বায়ুতে প্রধানত নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প থাকে।
[ বাকি অংশ প্রকাশিত হবে আগামীকাল ]