শিক্ষার্থী বন্ধুরা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আজকের পাঠশালায় তোমাদের জন্য থাকছে বাংলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিরাম চিহ্ন/যতি চিহ্ন/ছেদ চিহ্ন নিয়ে আলোচনা। প্রথমে ভালো করে পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজেরা বের করার চেষ্টা করবে এবং পরে সঠিক উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে নেবে।

বিরাম চিহ্ন/যতি চিহ্ন/ছেদ চিহ্ন

বিরাম চিহ্নের সংজ্ঞা : বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে 'যতি চিহ্ন', 'ছেদ চিহ্ন' বা 'বিরাম চিহ্ন' বলে।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত প্রধান প্রধান বিরাম চিহ্নের পরিচয় দাও।
উত্তর : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিরাম চিহ্ন :
চিহ্নের নাম বাংলা ভাষায় যে নামে ব্যবহৃত হয় চিহ্ন বিরতির সময় কমা পাদচ্ছেদ , ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন সেমিকোলন অর্ধচ্ছেদ ; ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময় দাঁড়ি পূর্ণচ্ছেদ । ১ (এক) সেকেন্ড প্রশ্নচিহ্ন প্রশ্নবোধক চিহ্ন ? ১ (এক) সেকেন্ড বিস্ময়চিহ্ন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ! ১ (এক) সেকেন্ড কোলন দৃষ্টান্তচ্ছেদ : ১ (এক) সেকেন্ড ড্যাশ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন _ ১ (এক) সেকেন্ড কোলন ড্যাশ ছেদ সংযোগ চিহ্ন :- ১ (এক) সেকেন্ড হাইফেন শব্দ সংযোগ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই জোড় উদৃব্দতি চিহ্ন জোড় উদৃব্দতি চিহ্ন " " ১ (এক) বলতে যে সময় এক উদৃব্দতি চিহ্ন এক উদৃব্দতি চিহ্ন ' ' ১ (এক) সেকেন্ড
লোপ চিহ্ন ইলেক বা লোপ চিহ্ন ' বিরতির প্রয়োজন নেই
বন্ধনী চিহ্ন ব্র্যাকেট বা বন্ধনী চিহ্ন (), {}, [] বিরতির প্রয়োজন নেই
বিন্দু চিহ্ন বিন্দু . বিরতির প্রয়োজন নেই
বিকল্প চিহ্ন বিকল্প চিহ্ন / বিরতির প্রয়োজন নেই
বিরাম চিহ্নের ব্যবহার:কমা (পাদচ্ছেদ)
সাধারণত ১ (এক) উচ্চারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু সময় থামতে হয় কমার জন্য।
(ক) বাক্যের অর্থবিভাগ দেখানোর জন্য কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন : সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
(খ) একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষটি বাদে সবগুলোর পর কমা বসে। যেমন : জবা, বেলি, হাসনাহেনা আমার প্রিয় ফুল।
(গ) সম্বোধনের পর কমা বসে। যেমন : সুমন, এদিকে এসো।
(ঘ) উদ্ধরণ চিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন: শিক্ষক বললেন, "আগামীকাল হরতাল।"
(ঙ) বার ও মাসের পরে কমা বসে।
যেমন : ১লা বৈশাখ, শনিবার, ১৪২১ সন।
সেমিকোলন (অর্ধচ্ছেদ):কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির দরকার হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন :আগে চেনা পথে যাও; পরে অচেনা পথে যেয়ো।
দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ)
বাক্যের পরিসমাপ্তি বোঝানোর জন্য দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। যেমন :মৃত্যুতে সব অহঙ্কার ধুয়ে-মুছে যায়।
বিস্ময় চিহ্ন (বিস্ময়সূচক চিহ্ন)
অবাক, বিস্ময় বা হৃদয়াবেগ প্রকাশ পেলে বাক্যের শেষে এই চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: ছি ছি! তুই এতো নীচ।
কোলন (দৃষ্টান্তচ্ছেদ)
অপূর্ণ বাক্যের পরে একটি পূর্ণ বাক্য এলে কোলন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন :প্রতিজ্ঞা করলাম : আর মিথ্যা বলবো না।
ড্যাশ (বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন)
পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা ততোধিক বাক্যের সমন্বয় বোঝাতে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: শিশির_ না, এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না।
কোলন ড্যাশ (ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন)
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে কোলন এবং ড্যাশ একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমন : কাল তিন প্রকার :- অতীত কাল, বর্তমান কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।
হাইফেন (শব্দ সংযোগ চিহ্ন)
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলোকে বিচ্ছন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহার করা হয়।
যেমন :এ আমাদের শ্রদ্ধা-অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি-উপহার।
[ বাকি অংশ প্রকাশিত হবে আগামীকাল ]

মন্তব্য করুন