জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

মু. সাইদুল হাসান
সিনিয়র প্রভাষক
ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ঢাকা
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আজকের পাঠশালায় তোমাদের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।
(গত আলোচনার পর থেকে)

সৃজনশীল প্রশ্ন
সিরাজের বিরুদ্ধে তৃতীয় আরেকটি পক্ষও কাজ করেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বড় ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতালোভী ভারতীয় বণিক সমাজের অভ্যুদয় ঘটে। রাজপুতনা থেকে আসা মারোয়াড়িরা এ ক্ষমতাবান বণিক। তারাও ব্যবসায়িক স্বার্থে ইংরেজ বণিকদের পক্ষে যোগ দেয় এবং বাংলার নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরই ফল হলো পলাশীর যুদ্ধে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাবের পরাজয় ও নির্মম মৃত্যু এবং ইংরেজদের হাতে বাংলার পতন। এভাবে শুরু হলো বাংলার ইতিহাসে ইংরেজদের প্রত্যক্ষ শাসনের কাল। এ ছাড়া বাংলার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল। নিম্নে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-
১. সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলা থেকে পুঁজি পাচারের ফলে বাংলার দারিদ্র্য ও গ্রাম সমাজের স্থবিরতা এতই প্রকট ও গভীর ছিল যে, বাণিজ্য বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর মতো উদ্দীপনা তাদের মধ্যে ছিল না।
২. প্রায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমল ছাড়া বহিরাগত শাসকদের দীর্ঘ শাসনকালে বাংলার সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। তারা শাসকদের প্রতি বিমুখ ও উদাসীন ছিল। ফলে ইংরেজ আক্রমণে নবাবের পতন কিংবা স্বাধীনতার অবসান সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা বা আগ্রহ ছিল না।
৩. ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে ইংরেজদের উত্তরোত্তর শক্তি বৃদ্ধি এবং তাদের ধূর্ত পরিকল্পনা বোঝার মতো কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি এ দেশে ছিল না।
৪. বাংলার অভ্যন্তরীণ শাসকশ্রেণি, বেনিয়া-ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও নবাব পরিবারের সুযোগসন্ধানী বিশ্বাসঘাতক চাটুকরদের কোন্দল-চক্রান্ত এত গভীর ও ছলনাপরায়ণ ছিল যে, তরুণ অনভিজ্ঞ সিরাজের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলার অভ্যন্তরের সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত, নবাব পরিবারের লুক্কায়িত কোন্দল, অভ্যন্তরীণ শাসকশ্রেণির বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতালিপ্সা এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা এ দেশ বিজয় করতে সক্ষম হয়।

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

১। পাল রাজাদের পর কোন রাজবংশ বাংলায় রাজত্ব শুরু করেছিল?
ক. গুপ্ত রাজবংশ খ. সেন রাজবংশ
গ. চন্দ্র রাজবংশ ঘ. মৌর্য রাজবংশ
২। সেনরা এসেছিল_
ক. দক্ষিণ ভারত থেকে খ. বিহার থেকে
গ. মিসর থেকে ঘ. সৌদি আরব থেকে
৩। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ছিলেন-
ক. ব্রিটিশ সেনাপতি খ. মোগল সেনাপতি
গ. আফগান সেনাপতি ঘ. তুর্কি সেনাপতি
৪। কত সালে বাংলায় স্বাধীন সুলতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৩৩৮ সালে খ. ১৩৪০ সালে
গ. ১৩৪০ সালে ঘ. ১৩৪১ সালে
৫। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর ১০০ বছরকে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়। কারণ তখন-
র দেশে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত
রর. বড় মাছ ছোট ছোট মাছকে ধরে খেয়ে ফেলত
ররর. শাসকবর্গ সুশাসনে অক্ষম ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. র ও রর খ. রর ও ররর গ. র ও ররর ঘ. র, রর ও ররর
[ বাকি অংশ প্রকাশিত হবে আগামীকাল ]