চীনে উচ্চশিক্ষা

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সিজান আহমেদ জিম ষ

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ইউরোপে স্কলারশিপ ছাড়া উচ্চশিক্ষা লাভ ব্যয়বহুল। আবার একই সঙ্গে বর্তমানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপ ছেড়ে এ দেশগুলোর দিকেও আগ্রহী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এশিয়ার এই দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে চীন। বাংলাদেশ থেকে এখন অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য চীনে আসছেন। অন্যদিকে চীনের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দিচ্ছে।

চীনে এমবিবিএস, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইইই, হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি বিষয়ে পড়া যায়। এমবিবিএসে পড়া কিছুটা ব্যয়বহুল। কারণ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেওয়া হলেও এমবিবিএসে সবাইকে দেওয়া হয় না।

চীনে প্রায় ১ হাজার ১০০ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যার বেশিরভাগই বিশ্বমানের। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ই বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ায় না। আবার এমনও বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ানো হয় কিন্তু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলেই পড়তে পারেন না। যেমন চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যদি এমবিবিএস পড়তে চান তবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে একটা সম্মতিপত্র নিতে হবে এবং শুধু বিএমডিসির অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করলেই সেটা বৈধ বলে গণ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালিকাটা প্রতি বছর হালনাগাদ করা হয়।

কেন পড়তে যাব চীনে :

* আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয় আর ল্যাব সুবিধা। গবেষণারও সুযোগ প্রচুর।

* যে কোনো বিভাগ থেকে যে কোনো গ্রেড পয়েন্ট দিয়ে ভর্তি হওয়া যায়। পাস করা বাংলাদেশের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সোজা।

* আইইএলটিএস অথবা টোফেলের দরকার পড়ে না। তবে এইচএসকে (আইইএলটিএস-টোফেলের মতো চীনা ভাষা নিরীক্ষণ পরীক্ষা) পাস করতে হবে। কিন্তু আবেদন করার জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়। স্নাতক হওয়ার আগে পাস করলেই হয়।

* কোনো সেশনজট নেই। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ। আছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা।

* জীবনযাত্রার ব্যয় তেমন বেশি নয়। শহরভেদে ৬ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে।

* চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি পড়াশোনার বাইরেও চোখ খুলে দেবে।

সূত্র: ভয়েস বাংলা