শিক্ষা সংবাদ

চতুর্থ পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

জাবেদ ইকবাল

ছেলেবেলায় বিশেষ করে স্কুলে পড়াকালে 'মাইসেলফ' বা নিজের সম্পর্কে কয়েক লাইন লেখার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। সেটা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্যই লিখে আসা যেন। খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তখন মাথা ঘামাত খুব কমসংখ্যক ছেলেমেয়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, একই অভিজ্ঞতা পুনরায় হয়ে থাকে অন্য কোনো দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে। খানিকটা খোলাসা করা যাক। ভিনদেশে পড়াশোনার জন্য যেতে চাইলে সবাইকেই বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে যেতে হয়। যার একটি হচ্ছে পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং বা নিজের সম্পর্কে লেখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিজের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অর্থাৎ পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা। ঠিক যতটা আকর্ষণীয় হওয়ার কথা ততটা আকর্ষণীয় উপস্থাপন অনুপস্থিত থাকে সেসব লেখায়। অন্যদিকে এ ধাপটি উতরে যেতে হলে ঠিক যা যা অনুসরণ করা উচিত, সেসব সম্পর্কেও ততটা ধারণা থাকে না শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা যখন দেশের বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে, তখন তাদের মুখোমুখি হতে হয় পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং বিষয়টির সঙ্গে। এটা নিজের সম্পর্কে লেখা একটা রচনার মতো। খুব সাধারণ বিষয় তবে সেটিকে কে কতটা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে সেটার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে নিজেদের শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য গ্রহণ করবে কি করবে না। এমনকি বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ সহযোগিতা করে প্রাথমিক পর্যায়ে লেখা এ রচনা। যারা দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রতি বছর বিশেষ এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এডুকেশন কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান মেইসেস।

মূলত ভিনদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী এমন শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে তারা। সেইসঙ্গে বেশ কিছু উদ্যোগও রয়েছে তাদের, যার মধ্যে একটি হচ্ছে পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঠিকঠাক বুঝতে পারে নিজের সম্পর্কে লেখা রচনার ধরন কেমন হওয়া উচিত কিংবা আকর্ষণীয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করা উচিত। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি ধারণা পেতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এ প্রতিযোগিতা। চতুর্থবারের মতো এ বছর পুনরায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এবার নজর দেওয়া যাক প্রতিযোগিতার পুরো প্রক্রিয়া কেমন হয় সে বিষয়ের প্রতি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধনের পর আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকেন। এ বছরের কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য কেমব্রিজ, যুক্তরাজ্যের ক্যাটস (ঈঅঞঝ) এডুকেশনের একাডেমিক ডিরেক্টর জর্জ ক্যাসলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার জন্য। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের লেখা রচনাগুলো মূল্যায়ন করার জন্য ইউনিভার্সিটি অব গল্গাসগো, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম, সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনসহ বিশ্বের নামী আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ধরনের আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোহাম মঞ্জুর জানান, মেইসেস প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এ দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা উন্মোচন করা। বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হয় পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং বিষয়টি নিয়ে। এমনকি অনেক সময় দেখা যায় শুধু ঠিকঠাক এটি উপস্থাপন করতে পারে না বলে বৃত্তি হাতছাড়া হয়ে যায়। সবমিলিয়ে সেসব সমস্যায় যাতে শিক্ষার্থীদের না পড়তে হয়, তাই প্রতি বছর এমন আয়োজন করা হয়। চতুর্থবারের মতো এ প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে। অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে মেইসেসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা নিচের লিংকে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। http://bit.ly/PSWC2019_Registration