জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পড়াশোনা

বাংলা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

মো. সুজাউদ দৌলা

সহকারী অধ্যাপক (বাংলা)

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

ঢাকা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্র বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।

গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

গদ্য : আমাদের লোকশিল্প

প্রশ্ন- গ্রামীণ লোকশিল্পের বিলুপ্তির কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের অভাবে আমাদের গ্রামীণ লোকশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে লোকশিল্পের এক নিবিড় সম্পর্ক আছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আজ গ্রামীণ লোকশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। লোকজন গ্রামের লোকশিল্পের সামগ্রীর চেয়ে শহরের কলকারখানায় তৈরি জিনিসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার অনেক লোকশিল্প কারিগরের আগের মতো দক্ষতা ও শিল্পীমন নেই। এসব কারণে লোকশিল্প ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন- জামদানি শাড়ির বৈশিষ্ট্য কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :জামদানি শাড়ির বৈশিষ্ট্য হলো, নদী তীরবর্তী এলাকায় এ শাড়ি তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের বিস্তারে শীতলক্ষ্যা নদীর ভূমিকা অনন্য। বৈজ্ঞানিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বাষ্প হয়ে যে আর্দ্রতার সৃষ্টি করে, তা জামদানি বুননের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে শুধু জামদানি শিল্প নয়, বরং বড় বড় কাপড়ের কারখানাও শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত।



প্রশ্ন- মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষদের ওপর কীরকম অত্যাচার করেছে?

উত্তর :মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষকে ঠকিয়ে, জোর করে তাদের জীবিকার মূলধন কেড়ে নিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করেছে। মোড়ল একজন অত্যাচারী, কঠোর মানুষ। সে গ্রামের মানুষের গরু কেড়ে নিয়েছে। কারও ধান লুট করেছে। কারও-বা মুরগি জবাই করে খেয়েছে। এসব মানুষকে সর্বস্বান্ত করে সে ধনী হয়েছে, আবার তাদের দুঃখ দেখে হেসেছে। এভাবেই সে সবার ওপর অত্যাচার করেছে।

প্রশ্ন- 'অন্যের মনে দুঃখ দিলে কোনোদিন সুখ পাবে না'- হাসু একথা কেন বলেছে?

উত্তর :মোড়ল অন্যকে কষ্ট দিত এবং অন্যের কষ্টে হাসত। তাই হাসু মোড়লকে উক্তিটি করেছিল। মোড়ল সবসময় অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করেছে। সবাইকে অত্যাচার করত সে, এমনকি হাসুর মুরগিও জবাই করে খেয়েছে সে। তাই যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় যখন সে নিজের জন্য সুখ প্রার্থনা করছিল, তখন হাসু একথা বলেছিল।

প্রশ্ন- কবিরাজ কেন সুখী মানুষের জামা সংগ্রহকে কঠিন কাজ মনে করেছে?

উত্তর :প্রকৃতপক্ষে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই কবিরাজ সুখী মানুষের জামা সংগ্রহকে কঠিন কাজ মনে করেছে। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু নিয়ে অতৃপ্তি থাকে। বস্তুত কেউই সম্পূর্ণ তৃপ্ত হতে পারে না। তাই এ সমাজে কেউই সুখী নয়। কবিরাজ তাই সুখী মানুষের জামা সংগ্রহকে পাহাড়, সমুদ্র, নক্ষত্র, বাঘের চোখ আনার চেয়েও কঠিন মনে করেছে।

প্রশ্ন- কাঠুরিয়া লোকটি নিজেকে সুখী মনে করে কেন?

উত্তর :কাঠুরিয়া লোকটির চাওয়া এবং পাওয়া সবকিছুই তার সাধ্যের মধ্যে। তাই সে নিজেকে সুখী মনে করে। কাঠুরিয়া লোকটির কোনো দুঃখ নেই। সে সারাদিন বনে কাঠ কেটে যা উপার্জন করে তা দিয়ে চাল, ডাল কিনে খায় এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার কোনো চিন্তা নেই, চাহিদা নেই, কিছু হারানোর ভয় নেই, চুরি হওয়ারও ভয় নেই। তাই সে নিজেকে সুখী মনে করে।

প্রশ্ন- মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না কেন?

উত্তর :সুখী মানুষের জামা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে মোড়লের সমস্যার সমাধান হয়নি। অত্যাচারী নিষ্ঠুর মোড়লের রোগ সারাবার একমাত্র উপায় ছিল একজন সুখী মানুষের জামা তাকে পরানো। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পর যে সুখী মানুষ পাওয়া গেল তার কিছুই ছিল না। এমনকি গায়ের জামাও না। আর তাই মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না।



প্রশ্ন- লেখক মংডুর যে কলহাস্যমুখর সন্ধ্যার বর্ণনা দিয়েছেন তা তুলে ধরো।

উত্তর : মংডুর পথে সন্ধ্যায় তরুণ-তরুণী, মেয়ে-পুরুষ, যুবক-যুবতী সবাই রাস্তায় নেমে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

মংডুতে শুল্ক্ক অফিসের কাজ শেষে হোটেলে পৌঁছানোর সময় পথে লেখকের দেখা মংডুর সন্ধ্যার এক অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায়।

[ বাকি অংশ প্রকাশিত হবে আগামীকাল ]