ঢাকার যে ক'টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের শিক্ষা পদ্ধতি দিয়ে ভালো ফলে প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম সাউথ পয়েন্ট কলেজ। পুঁথিগত শিক্ষা নয়, মেধাভিত্তিক সৃজনশীল শিক্ষাই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সামনের দিকে। এ বিষয় সামনে রেখেই যাত্রা শুরু হয়েছিল এ প্রতিষ্ঠানের। ২০০২ সালে মাত্র ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন প্রায় ১২ হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে পড়ালেখা করছে। আমেরিকান দূতাবাস ছাড়িয়ে নর্দ্দা যেতে হাতের ডানে বারিধারা জে ব্লকে ঢুকে মিনিট ১৫ হাঁটতেই সাউথ পয়েন্টের বিশাল ভবন। ৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা বিশাল ক্যাম্পাস। পরীক্ষায় ভালো ফল করার উদ্দেশ্যে নোট, সাজেশন, মুখস্থ বিদ্যার স্থান এখানে নেই। বরং সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। সৃজনশীল শিক্ষা বলতে নিজস্ব তৈরিকৃত অনুচ্ছেদের ওপর শিক্ষক এমন প্রশ্ন তৈরি করেন, যা চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। প্রতিদিনের শ্রেণিপাঠ শিক্ষক বাস্তবতার নিরিখে ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের মাধ্যমে বুঝিয়ে পড়ান এবং তার ওপর শিক্ষার্থীরাও তাৎক্ষণিক প্রশ্ন ও উত্তর তৈরি করে। এখানে পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট স্মার্টক্লাস তৈরির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীনসহ। স্পেসিয়াস অডিটোরিয়াম, হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধাসহ আধুনিক 'ই-লাইব্রেরি, ল্যাব, এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিনও। মালিবাগে ৬ বিঘা জমিতে তৈরি করা হচ্ছে স্থায়ী আধুনিক ক্যাম্পাস। উত্তরায়ও নেওয়া হয়েছে ৭ বিঘা জমি। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন ও ইংরেজি মাধ্যমের এই প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মিরপুর, উত্তরা, দোলাইরপাড়সহ মোট ৬টি শাখা রয়েছে। যেখানে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রকৌশলী এমএ রশিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ভিকারুননিসা নূন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হামিদা আলী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাউথ পয়েন্টের ইংরেজি মাধ্যম শাখার শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই 'ও' এবং 'এ' লেভেল পরীক্ষায় কান্ট্রি হায়েস্ট রেজাল্ট অর্জনের জন্য আউটস্ট্যান্ডিং ক্যামব্রিজ লার্নার অ্যাওয়ার্ড ও ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সর্বশেষ ২০১৯ 'ও' লেভেল পরীক্ষায়ও সাত বিষয়ের ৬টিতেই 'এ' ও একটিতে 'এ' গ্রেড এবং 'এ' লেভেল পীক্ষায় ৫ বিষয়ের মধ্যে ৩টিতেই 'এ' ও ২টিতে 'এ' গ্রেড অর্জনসহ অভূতপূর্ব ফল করে। আর এই ফলের জন্য 'ও' এবং 'এ' লেভেলে যথাক্রমে ৭৯ ও ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সাউথ পয়েন্ট কলেজের বাংলা মাধ্যম ও ভার্সনের পাশের হারও ঈর্ষণীয়। প্রতি বছরই শতভাগ পাস। সেই সঙ্গে বছরব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে জিপিএ ফাইভ বা এ প্লাসের সংখ্যাও। জিপিএ ফাইভের হার প্রতি বছরই ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।

গত বছর গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথ পয়েন্টের। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৮ জন। এ বছর আরও ভালো করেছে তারা। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং সেই বছরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান লাভ করে। সাউথ পয়েন্ট বনানী শাখা জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের PASCH প্রোগ্রামের আওতায় জার্মান ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার অধীনে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বৃত্তি সুবিধায় জার্মানে উচ্চশিক্ষার সুযোগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জার্মানি সফর করছে তাদের অর্থায়নেই। কেবল জার্মানিতেই নয়, ২০১৩ সালে সাউথ পয়েন্ট বনানীর একদল শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নাসা সফর করে।

মন্তব্য করুন