জ্যোতি ভূষণ বিশ্বাস

প্রভাষক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা

ঢাকা

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকের পাঠশালায় পদার্থবিজ্ঞান থেকে প্রশ্নোত্তরের কিছু নমুনা দেওয়া হলো।

১। সমবেগে চলমান কণার ত্বরণ শূন্য কেন?

উত্তর : যদি কোনো কণার গতিকালে তার বেগের মান ও দিক অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ কণা যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বা সুষম বেগ বলে। আবার বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। অর্থাৎ ত্বরণ হয় অসমবেগের ক্ষেত্রে। কারণ অসমবেগের ক্ষেত্রে বেগের পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু সমবেগের ক্ষেত্রে বেগের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো ত্বরণ থাকে না। এ কারণেই সমবেগে চলমান কণার ত্বরণ শূন্য।

২। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি কী ধরনের গতি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর :সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যায়বৃত্ত গতি। নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো-

কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তাহলে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার সময় কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে। তাই সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যায়বৃত্ত গতি।

৩। সুষম বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : আমরা জানি, বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণকে কৌণিক ত্বরণ বলে। সুষম বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে গতিশীল বস্তুর বেগের মানের কোনো পরিবর্তন হয় না; কিন্তু বেগের দিকের পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ বস্তুর ত্বরণ হয়। সুষম বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে চললেও বস্তুর ত্বরণ থাকে। এই ত্বরণ বৃত্তাকার পথের ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে বলে একে কেন্দ্রমুখী ত্বরণ বলে।

৪। সরলদোলকের গতি স্পন্দন গতি বা দোলন গতি কেন?

উত্তর : পর্যায়বৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় একই পথে তার বিপরীত দিকে চলে, তবে এর গতিকে স্পন্দন গতি বা দোলন গতি বলে। সরলদোলক পর্যায়কালের অর্ধেক সময় যে দিকে চলে বাকি অর্ধেক সময় তার বিপরীত দিকে চলে বলে সরলদোলকের গতি স্পন্দন গতি বা দোলন গতি বলে।

৫। একটি বস্তু বৃত্তাকার পথে সম্পূর্ণ ঘুরে এলে এর সরণ কত হবে- কেন?

উত্তর : নির্দিষ্ট দিকে পারিপার্শ্বের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনকে সরণ বলে।

কোনো বস্তুর সরণের মান হলো আদি অবস্থান এবং শেষ অবস্থানের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব অর্থাৎ সরলরৈখিক দূরত্ব এবং সরণের দিক হলো আদি বিন্দু থেকে শেষ বিন্দুর দিকে। কোনো একটি বস্তু বৃত্তাকার পথে সম্পূর্ণ আবর্তন করে এলে বস্তুর সরণ শূন্য হয়। কেননা, বৃত্তাকার পথ সম্পূর্ণ ঘুরে বস্তুটি আবার আগের অবস্থানে চলে আসে।

৬। সুষম ত্বরণের উদাহরণ দাও।

উত্তর : কোনো বস্তুর বেগ যদি নির্দিষ্ট দিকে সব সময় একই হারে বাড়তে থাকে তাহলে সে ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বলে।

যেমন- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ। কোনো বস্তু অভিকর্ষ বলের প্রভাবে পড়তে থাকলে এর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৯.৮ মি./সে. করে বাড়তে থাকে।

৭। 'সব স্থিতিই আপেক্ষিক স্থিতি' ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : আমরা জানি, এ মহাবিশ্বের কোনো কিছুই স্থির নয়। সুতরাং পরম স্থির বলে কিছু নেই। আমরা যা স্থির দেখি তা প্রকৃতপক্ষে স্থির নয়, পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে স্থির। সুতরাং আমরা বলতে পারি সব স্থিতিই আপেক্ষিক স্থিতি।

[বাকি অংশ প্রকাশিত হবে আগামীকাল]

মন্তব্য করুন