কোন পয়েন্টে দালাল কারা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

আহমেদ কুতুব

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী নগরের গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক মোড় আছে ৪৪টি। এর মধ্যে ২৮টি পয়েন্ট ট্রাফিক পুলিশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। টোকেন প্রথা উঠে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চাঁদাবাজি করতে দালাল ও লাইনম্যান নিযুক্ত করে পুলিশ; যারা সহায়তা করে পুলিশের অবৈধ এ কর্মকাণ্ডে।
সমকালের অনুসন্ধানে নগরের এ কে খান মোড়ে মিয়া, নুরু ও শহীদ নামে তিন দালাল ও লাইনম্যান পুলিশের চাঁদাবাজিতে সহায়তা করে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অলংকার মোড়ে আছে সাহেদ, জসিম, সাদেক ও দিদার, সল্টগোলায় জহির, জাবেদ, সাইফুলসহ পাঁচজন, নিউমার্কেট মোডে সাইফুল, জিইসি মোড়ে চান্দু, নাসির ও ফিরোজ, চকবাজারে জিসান ও সাইফু, দুই নম্বর গেটে সাদেকসহ চারজন, অক্সিজেনে নিজামসহ চারজন, দেওয়ানহাটে তিনজন, কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকার দুই মোড়ে পাঁচজনসহ নগরজুড়ে শতাধিক দালাল চাঁদাবাজিতে তৎপর রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ, টেম্পো, বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালক ও মালিক সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
দালাল নিযুক্তের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিসি ট্রাফিক (দক্ষিণ) সুজায়াত ইসলাম সমকালকে বলেন, 'দালাল রাখার কোনো বিধান নেই। এটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারও বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ উঠে প্রমাণ সাপেক্ষে সেই সার্জেন্ট ও দালালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এদিকে মহানগর টেম্পো চালক-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জানান, নগরের আটটি পয়েন্টে লাইনম্যানের মাধ্যমে পুলিশ প্রতি টেম্পো থেকে একশ' টাকা করে চাঁদা নেয়। এর মধ্যে লাইনম্যান পায় ২০-৩০ টাকা। বাকি টাকা যায় ট্রাফিক পুলিশের পকেটে। এ টাকা না দিলে সমস্যার পাহাড় দেখিয়ে টেম্পো চালাতে দেয় না পুলিশ ও লাইনম্যানরা।
এ কে খান মোড়ের পুলিশের দালাল শহীদ জানান, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল স্যাররা যেভাবে কাজ করতে বলেন সেভাবেই কাজ করি। চট্টগ্রামমুখী কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দুই হাজার টাকা নিতে পারলে একশ' টাকা পাই।