সল্টগোলা ক্রসিং

জহির-জাবেদের দাপট

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

নোমান আব্দুল্লাহ

ট্রাকটি (চট্ট মেট্রো ট-১১-৪১০১) আসতেই এক হাত তুলে থামার ইঙ্গিত দিলেন জহির। পুলিশে চাকরি না করেও এ রাস্তার সার্জেন্ট হিসেবে পরিচিত তিনি। তার ইশারার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাকটি থেমে গেল। ট্রাক থেকে নেমেই হেলপার দৌড়ে গেল জাবেদের কাছে। জাবেদও জহিরের মতো পোশাকবিহীন সার্জেন্ট। হেলপারের দেওয়া ২০০ টাকা নিয়ে তিনি পার হলেন রাস্তা। টাকাটা বুঝিয়ে দিলেন এবার একজন সত্যিকারের সার্জেন্টকে। 'জ' আদ্যক্ষরের সেই সার্জেন্ট সল্টগোলা ক্রসিংয়ের 'পুলিশ বক্স' হিসেবে পরিচিত একটি ছোট কক্ষে টাকা রেখে আবারও চলে এলেন রাস্তায়। সকাল ৯টা থেকে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ নিয়মেই একে একে ১৭টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে চাঁদা তুলল এ তিনজন। তাদের সবাইকে চালকরা সার্জেন্ট হিসেবে চিনলেও তাদের মধ্যে সার্জেন্ট রয়েছেন মাত্র একজন! বাকি দুই ভুয়া সার্জেন্ট মূলত দালাল। কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন উৎসাহমূলক কর্মকাণ্ডও বন্ধ করতে পারছে না এ সড়কের চাঁদাবাজি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) সুজায়েত ইসলাম সমকালকে বলেন, 'দালাল রেখে কারও চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'কোনো পুলিশ যাতে অনৈতিক কাজে জড়িত হতে না পারে এবং নিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল, বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশকে আরও দক্ষ করে তুলতে আমরা ওরিয়েন্টশন ক্লাসের ব্যবস্থা করছি।'
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং কনস্টেবল থাকলেও এখানে দাপট দেখায় জহির-জাবেদ। তারাই মূলত এখানে চলাচলরত ট্রাক-কাভার্ডভ্যানগুলো থেকে টাকা আদায় করে। জহিরের দায়িত্ব গাড়ি থামানো। টাকা তোলার দায়িত্বে থাকে জাবেদ। তারা সেই টাকা জমা রাখেন আসল সার্জেন্টের কাছে। দিনশেষে আদায়কৃত টাকার একটি অংশ পায় জহির-জাবেদ। বাকি টাকা সার্জেন্টের পকেটে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে চলতে এ সড়কে এটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই জহিরের ইশারা পেলেই চালকরা টাকা নিয়ে জাবেদের দিকে দৌড়ে যায়।
ট্রাকচালক ও হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি ট্রাক থেকে ২শ' টাকা করে নেওয়া হয়। আর কাভার্ডভ্যান থেকে নেওয়া হয় ৪শ' টাকা। টাকা আদায়ের এ তালিকা থেকে বাদ যায় না ছোট পিকআপও