হাতের ইশারায় ট্রাফিক কন্ট্রোল

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

স্বপন কুমার মলি্লক

যুগোপযোগী আইন ও আধুনিক ডিজিটাল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় নগরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। যানজট নিরসনে লাল-সবুজ আর হলুদ সংকেতে কাজ না হওয়ায় অনেক স্থানে হাতের ইশারায় চলে ট্রাফিক কন্ট্রোল।
যানজট অবস্থার উন্নতিতে মহানগরকে দুই জোনে (বন্দর ও উত্তর) ভাগ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রতি নগরের দুটি ব্যস্ততম সড়ক মোড়ে শতভাগ ডিজিটাল ব্যবস্থা ও পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু লোকবল সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা সীমাবদ্ধতায় শুরুতেই থমকে গেছে এ উদ্যোগ। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ জন্য মান্ধাতার আমলের আইন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন।
১৯৭৮ সালে নগর পুলিশের যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়েও ৫০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম মহানগরে ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এক বছর আগে বিশ্বকাপের সময় ব্যস্ততম জিইসি মোড়কে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের আওতায় আনা হয়। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে পরিকল্পনাটি ওই একটি সড়ক মোড়েই এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ ছাড়া ২০১২ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ বাদামতলী সড়ক মোড়টিকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলি হয়ে আসা নগর ট্রাফিক বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নিহার রঞ্জন হাওলাদার। এতে চসিক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা ছিল। আগ্রাবাদ এলাকায় গৃহীত এ প্রকল্পের সফলতায় পর্যায়ক্রমে এটি বন্দর জোনের অধীনে দেওয়ানহাট মোড়, চৌমুহনী, বারিক বিল্ডিং মোড়, অলংকার মোড়, এ কে খান মোড়, নিমতলা (বন্দর) মোড়, সল্টগোলা সড়ক মোড়, ইপিজেড এবং সিমেন্ট ক্রসিংয়ে সম্প্রসারণের কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লোকবল সংকটে তাও আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।
লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. সুজায়েদ ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সার্জেন্টের ৮২টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র ৫৬ জন, কনস্টেবলের ২১০ পদে ২০১ জন এবং হাবিলদারের ৩০ পদে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। তবুও আমরা রুটিন ওয়ার্কগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। বিগত দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সম্ভব না হলেও এবার আমরা পাইলট প্রকল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছি।'
ট্রাফিক উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার নিহার রঞ্জন হাওলাদার বলেন, '১৯৮৮ সালের সর্বশেষ ট্রাফিক আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর শাস্তি (১০০ টাকা জরিমানা)। সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চালানোর সর্বোচ্চ শাস্তি ৫শ' টাকা জরিমানা। এসব শাস্তি বর্তমান টাকার মূল্যমানে মোটেও যুগোপোযোগী নয়। তাই একাধিকবার জরিমানা দেওয়ার পরও অনেকে একই অপকর্ম করে।'
একইসঙ্গে দু'ধরনের পদ্ধতি চালু থাকার ব্যাপারে সার্জেন্ট মহিউদ্দিন বলেন, গাড়ি চালকদের থামার জন্য লাল লাইট, সামনে অগ্রসর হতে সবুজ এবং প্রস্তুতি নিতে হলুদ লাইট দেখানো হলেও অনেকে তা দেখেও না দেখার ভান করে দ্রুত চলে যায়। নাম্বার নজরে না এলে অনেক সময় মামলা দেওয়াও সম্ভব হয় না। হাত দিয়ে সামনে না যাওয়ার সংকেত দেখিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ কেউ তাও কেয়ার করে না। তারা হাতের নিচ দিয়েই চলে যান। অথচ বিদেশে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা থাকায় ঠিকানা দেখে মামলা করে জরিমানার টাকা পরিশোধের নোটিস পেঁৗছে দেওয়া হয় আইন অমান্যকারী বাসায় পেঁৗছার আগেই। এছাড়া এখানে ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা না থাকায় অপ্রশস্ত মোড়ে শতভাগ ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে যে পথে হস্তচালিত ও যন্ত্রচালিত যান একসঙ্গে চলে সেখানে তা বাস্তবায়ন কঠিন। নির্ধারিত পথে নির্দিষ্ট গতির যানবাহনে সাধারণত অত্যাধুনিক ডিজিটাল সিস্টেম প্রয়োগ করা উচিত। এমন হলে এর সুফলও পাবে সড়ক ব্যবহারকারীরা।