৩৫ বছরের পুরনো ছকে চলছে ট্রাফিক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

- কুসুম দেওয়ানউপ-পুলিশ কমিশনার, ট্রাফিক (উত্তর), সিএমপি

যে চারটি স্পটে ছিলেন সমকালের চার রিপোর্টার সেসব স্পট ছিল ট্রাফিক উত্তর ও বন্দরের অধীনে।
এসব স্পট থেকে ঘুষ লেনদেনের ভয়ঙ্কর অনেক তথ্য মিলেছে। নগরের ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ে ভবিষ্যতেও
চোখ খোলা রাখবে সমকাল। ট্রাফিকের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে নগরের দুই জোনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে
কথা বলেছেন সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান সারোয়ার সুমন

সমকাল : নগরে সরেজমিন ঘুরে ট্রাফিক সিস্টেমে দেখা গেছে হ-য-ব-র-ল। বর্তমান কার্যক্রমে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?
কুসুম দেওয়ান : বর্তমান কার্যক্রমে আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট নই। কারণ যেভাবে ট্রাফিক সিস্টেম পরিচালনা করা দরকার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেভাবে করতে পারছি না। ১৯৭৮ সালে সিএমপি প্রতিষ্ঠাকালে প্রায় পাঁচশ' জনের যে অর্গানোগ্রাম ছিল এখনও বহাল আছে সেটি। গত ৩৫ বছরে গাড়ির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বেড়েছে জনসংখ্যাও। এরপরও আমরা নতুন জনবল পাইনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতিও ক্রমে খারাপ হচ্ছে।
সমকাল : সমকালের অনুসন্ধানে ট্রাফিক কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। আপনাদের পর্যবেক্ষণে এমন কোনো চিত্র আছে কি? কুসুম দেওয়ান : ট্রাফিক পুলিশদের মধ্যে সবাই ভালো সে কথা আমি দাবি করছি না। তবে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে কেউ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও দিচ্ছে না। প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।
সমকাল : মোটরচালিত রিকশা ও মিটারবিহীন অটোরিকশা চলছে প্রকাশ্যে। নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এ অনিয়ম চললেও কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ?
কুসুম দেওয়ান : মোটরচালিত রিকশা ও অটোরিকশার ব্যাপারে হাইকোর্টে একাধিক রিট রয়েছে। সেগুলো বিচারাধীন থাকায় আমরা সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।
সমকাল : সময়ের প্রয়োজনে কেন ডিজিটাল হচ্ছে না ট্রাফিক সিস্টেম?
কুসুম দেওয়ান : জনবল বাড়িয়ে ট্রাফিক সিস্টেমকে ডিজিটাল করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আমাদের প্রস্তাবনা আছে। যতদূর জানি এটি এখন মন্ত্রণালয়ে আছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে নতুনভাবে সাজবে ট্রাফিক সিস্টেম। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরের জিইসি মোড়ে ডিজিটাল বাতি স্থাপন করেছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে সেটি থেকে প্রত্যাশিত সুফল আসছে না। আসলে ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন হতে হবে নগরবাসীকেও। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কাউন্সেলিং করছি। আসলে আইনের প্রতি যদি জনগণ শ্রদ্ধাশীল না হয়, তাহলে জনবল বাড়িয়ে কিংবা সিস্টেমে পরিবর্তন এনেও মিলবে না কাঙ্ক্ষিত সুফল।