নিষ্ঠাবানরা পাবেন পুরস্কার অভিযুক্তরা শাস্তি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

- সুজায়েত ইসলামউপ-পুলিশ কমিশনার, ট্রাফিক (বন্দর), সিএমপি

যে চারটি স্পটে ছিলেন সমকালের চার রিপোর্টার সেসব স্পট ছিল ট্রাফিক উত্তর ও বন্দরের অধীনে।
এসব স্পট থেকে ঘুষ লেনদেনের ভয়ঙ্কর অনেক তথ্য মিলেছে। নগরের ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ে ভবিষ্যতেও
চোখ খোলা রাখবে সমকাল। ট্রাফিকের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে নগরের দুই জোনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে
কথা বলেছেন সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান সারোয়ার সুমন

সমকাল : সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেল ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ লেনদেন অনেকটা ওপেন সিক্রেট। কেন এমন হচ্ছে?
সুজায়েত : পুরস্কার, তিরস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে ট্রাফিক বিভাগকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। এটি খুবই বিব্রতকর ও দুঃখজনক। এসব ব্যাপারে আমরা সবসময় কঠোর। তথ্য-প্রমাণসহ কারও বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঘুষখোরদের শনাক্ত করতে আমরা আপনাদেরও সহযোগিতা চাই।
সমকাল : পুলিশের ব্যর্থতা, নাকি জনসচেতনতার অভাব_ ট্রাফিক সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ না করার কারণ কোনটি?
সুজায়েত : একটি সিস্টেম পূর্ণাঙ্গ করতে হলে সব পক্ষেরই সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ট্রাফিক পুলিশদের কাজ করতে হবে নিষ্ঠার সঙ্গে। পুলিশ কোনো প্রলোভনে বিক্রি হতে পারবে না। এ জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ট্রাফিক সার্জেন্টদের নিয়ে শুরু হবে ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। একই রকম ওরিয়েন্টেশন করে চালকদেরও সচেতন করার পরিকল্পনা আছে ট্রাফিক বিভাগের। আসলে আইন মানার ব্যাপারে সব পক্ষকেই সমানভাবে সচেতন হতে হবে।
সমকাল : অভিযুক্ত ট্রাফিক পুলিশদের শাস্তি দেওয়া ও নিষ্ঠাবানদের পুরস্কৃত করার কোনো উদাহরণ আছে কি?
সুজায়েত : কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াতে বন্দর ট্রাফিক প্রতি মাসেই পুরস্কৃত করছে নিষ্ঠাবান তিন ট্রাফিক পুলিশকে। জরিমানা আদায় এবং নীতি-নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করেই এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এ জোনে সার্জেন্ট জলিল মিয়া, সার্জেন্ট সুভাষ চন্দ্র দে এবং সার্জেন্ট বিপুল পালকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। যেমন সার্জেন্ট আদনীন আলম এবং সার্জেন্ট পুলক চাকমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা।
সমকাল : সমকালের অনুসন্ধানে বেশকিছু ট্রাফিক কনস্টেবল ও সার্জেন্টদের প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করতে দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি?
সুজায়েত : অবশ্যই। আসলে এমন অভিযোগ আমাদের বিব্রত করে। কিছু অসৎ ট্রাফিক পুলিশের জন্য পুরো বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে না। আমরা অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পুনরায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেব। আপনাদের ডেকে বিষয়টি অবহিতও করব। আসলে তথ্যপ্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পেলে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।