শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন গোলচত্বর

প্রতি গাড়িতে ২শ' থেকে দুই হাজার টাকা আদায়

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০১৪      

আনোয়ার রোজেন

১৪ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। দুপুর সাড়ে ১২টা। নগরের ব্যস্ততম পয়েন্ট শাহ আমানত সেতুর (কর্ণফুলী সেতু) গোল চত্বর। এটি নগরের অন্যতম প্রবেশ পথও। কোন গাড়ি শহরে প্রবেশ করছে, আবার কোন গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে শহর। এমন ব্যস্ত পয়েন্টে হঠাৎ দৃশ্যপটে এলেন 'আ' আদ্যক্ষরের এক সার্জেন্ট। লাইসেন্স না থাকায় এ সময় আটক করলেন একটি পিকআপ ভ্যান। ভ্যান আটকের পর থেকেই হাতের মুঠোয় টাকা নিয়ে সার্জেন্টের পেছন পেছন ঘুরতে দেখা যায় ভ্যান চালককে। এক পর্যায়ে সার্জেন্টের দয়া হলো! তিনি তার কোমরে রাখা ব্যাগের চেইন খুলে তা মেলে ধরলেন ভ্যান চালকের সামনে। ভ্যান চালক তাতে ভরে দিলেন তার মুঠোয় রাখা টাকা। আশপাশের কেউ কিছু বুঝতেই পারল না। এ লেনদেন যেন একেবারে পরিকল্পনার ছকে বাঁধা! শাহ আমানত সেতু এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অবস্থানকালে দেখা গেল এমন আরও কয়েকটি ঘটনা।
গাড়ির চালকদের জানা নিয়ম!
দৃশ্যপট পর্যবেক্ষণ করে ভ্যান চালকের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম কেন টাকা দিয়েছেন? উত্তরে তিনি বললেন, 'বুঝতে পারছেন না কেন টাকা দিলাম?' এরপরই কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে তিনি ভ্যান নিয়ে দ্রুত সেতু এলাকা ত্যাগ করলেন। শুধু এ ভ্যান চালক নন, দুপুর ২টা পর্যন্ত এমন আরও কয়েকজন মিনিবাস ও টেম্পো চালককে দেখা গেল এভাবে সার্জেন্টের ব্যাগে টাকা পুরে দিতে। তাদের মধ্যে কোনো কোনো চালককে আগ বাড়িয়ে টাকা দিতেও দেখা যায়।
তিন স্তরে চাঁদা আদায়
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কর্ণফুলী সেতু এলাকায় বিভিন্ন গাড়ি থেকে তিন স্তরে আদায় করা হয় চাঁদা। দালাল, কনস্টেবল এবং সার্জেন্ট এ তিন স্তরে চাঁদা দেয় গাড়ির চালকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল বলেন, 'গাড়িপ্রতি দুইশ' থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক হারে চাঁদা নিয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। বেশিরভাগ সময় এ সেতু এলাকায় আমাদের ব্যবহার করে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদা আদায় করে।'
ভাগ পান বড় কর্তারাও!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতুতে কর্মরত এক কনস্টেবল জানান, অনেক সময় চাঁদার টাকা আমাদের হাতে হাতে পেঁৗছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে একটা অংশ চলে যায় পুলিশের বড় কর্তাদের কাছে। এ ছাড়া অনেক সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে চলা গাড়ি আটক করা হলেও চট্টগ্রামের বড় বড় ব্যবসায়ী এবং পুলিশের কর্তাদের অনুরোধে কোনো অ্যাকশন ছাড়াই ছেড়ে দিতে হয়।
তিনি আরও জানান, আমরা নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ওপরের অনুরোধে ছেড়ে দিতে হয়। তাই আমরাও ঝামেলা না করে 'কিছু' নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিই।
টার্গেটে যেসব গাড়ি

কর্ণফুলী সেতু এলাকায় যেসব গাড়ি চাঁদার টার্গেট, তার মধ্যে রয়েছে নম্বর প্লেট ও লাইসেন্সবিহীন লোকাল বাস, মিনিবাস, টেম্পো, লেগুনা ও অটোরিকশা। তবে দিনের বেলা নিয়মবহির্ভূতভাবে যেসব ট্রাক সেতু ব্যবহার করে সেসব ট্রাক চালকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় বলেও জানান এক দালাল।