ভেজালমুক্ত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন নিশ্চিত করতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। নগরের বিবিরহাটে স্থাপিত এ পরীক্ষাগারে সব ধরনের খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা যাবে। পরীক্ষাগারটি পরিচালনা করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন খাবার সামগ্রী পরীক্ষা করার ক্ষমতা দেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে চিঠি দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখেছি। যাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদিত প্রত্যকটা খাদ্যপণ্য এ ল্যাবে পরীক্ষা করাটা বাধ্যতামূলক করা হয়। এ অনুমতি পেলে বর্তমানে ভেজালের যে দৌরাত্ম্য এটা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারব।'
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সেপ্টেম্ব্বরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন প্রকল্প নেয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ইউপিইএইচএসডিপি) আওতায় ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি শহরেই ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর নগরের বিবিরহাটে চট্টগ্রামের খাদ্য পরীক্ষাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেষ হয়েছে খাদ্য পরীক্ষাগারের অবকাঠামো নির্মাণকাজ। খাদ্যের ভেজাল শনাক্ত ও গুণাগুণ নির্ণয়ে ৮২টি যন্ত্রপাতিও স্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনের লোকজনের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য ও খাবার পানিসহ বিভিন্ন পানীয় সংগ্রহ করে চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। পরীক্ষাগারটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে দুগ্ধজাত পণ্য, মিষ্টিজাত পণ্য, কার্বোনেটেড ভেবারেজ, জুস, ড্রিংকিং ওয়াটার, সস, মসলা জাতীয় স্ন্যাকস ফুড, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, ড্রাই সুপ, পাস্তা-নুডলস, আটা, ময়দা, সুজিসহ প্রায় তিনশরও অধিক খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা যাবে।
চট্টগ্রাম আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারের মাইক্রোবায়োলজিস্ট আশীষ কুমার দাশ বলেন, 'খাদ্য ভেজাল ও বিষক্রিয়ার কারণে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি একটি অত্যাধুনিকমানের ল্যাব। ল্যাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে খাদ্যে ভেজালের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। খাদ্য ভেজাল ও বিষমুক্ত খাবার পাবে চট্টগ্রামবাসী।' পরীক্ষাগারের রসায়নবিদ ইসমাঈল হোসেন বলেন, 'ল্যাবে পরীক্ষা করা ছাড়া খাদ্য ভেজাল শনাক্ত ও খাদ্যের মান সঠিকভাবে যাচাই করা কঠিন। পরীক্ষাগারটি পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'

মন্তব্য করুন