সড়ক একমুখী, কিন্তু যানবাহন চলছে দু'দিক দিয়েই। একমুখী সড়ক সাইনবোর্ড থাকলেও তা মানছে না যানবাহন চালকরা। এসব সড়কে অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের সামনে আইন ভেঙে দ্বিমুখী গাড়ি চলে। এতে করে সড়কে দুর্ঘটনার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজটও।
সরেজমিন বুধবার দুপুর ১টায় কেসিদে রোডের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের গলির মুখে ট্রাফিক কনস্টেবল সিদ্দিকের সামনেই সিএনজি, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস এবং রিকশাকে লালদীঘির দিকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। একমুখী সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও এ বিষয়ে নির্বিকার ছিলেন কনস্টেবল সিদ্দিক। তিনি সমকালকে বলেন, 'বাধা দিলেও রিকশা ও সিএনজিচালকরা শুনেন না।
যতক্ষণ বাধা দেই ততক্ষণ চলাচল বন্ধ থাকে। যতক্ষণ না চালকরা নিজেরা সচেতন না হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ অপরাধ প্রবণতা ঠেকানো যাবে না।'
একই অবস্থা দেখা গেছে আদালত ভবনের একমুখী সড়কে। এখানেও সিএনজি, মাইক্রোবাস, কার দ্বিমুখী চলাচল করতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি করে। চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা বাধা দিলেও বাধা উপেক্ষা করে অনেক যানবাহনকে আইন ভেঙে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এভাবে আইন ভেঙে একমুখী সড়কে দ্বিমুখী যানবাহন চলতে দেখা যাচ্ছে নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়ক, দামপাড় থেকে গোলপাহাড় মোড় পর্যন্ত এমএম আলী সড়ক, কেসিদে রোড থেকে হকার মার্কেটস্থ লালদীঘির মোড় সড়ক, জিইসি মোড় থেকে জাকির হোসেন মোড, দামপাড়া থেকে জাকির হোসেন রোড মোড়, আন্দরকিল্লা থেকে কেসিদে মোড়, চট্টগ্রাম আদালত ভবন সড়ক, চকবাজারের লালচাঁন্দ সড়কসহ আরও বেশ কয়েকটি সড়কে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদুল হাসান সমকালকে বলেন, 'আইন ভঙ্গ করায় প্রতিদিনই অসংখ্য যানবাহনকে জরিমানা করছে ট্রাফিক সার্জেন্টরা। যেসব যানবাহন আইন না মেনে একমুখী সড়কে দ্বিমুখী চলাচল করতে তাদের আরও কঠিনভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।'
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানগরের সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজট নিরসনে সড়ক ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল করতে যানজটপ্রবণ অনেকগুলো সড়কে দ্বিমুখী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এসব সড়কে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে একমুখী সড়ক চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এমনকি সড়কগুলোর মুখে 'একমুখী সড়ক' নামফলকও লাগিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

মন্তব্য করুন