রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নের একটিতে মাত্র জিতেছেন বিএনপির প্রার্থী। বাকি ১০ ইউনিয়নেই নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় ও মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা। পঞ্চম ধাপের পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চারটিতেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়জয়কার অবস্থার জন্য নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থী মনোনয়নকে দুষছেন। রামুর রাজনীতিতে দুই ভাই কমল-কাজল ফ্যাক্টর। তাদের কোন্দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে ভোটাররা মন্তব্য করেছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসাতে শীর্ষ নেতারা ব্যর্থ হওয়া ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের অভাবে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রামুতে নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন ব্যক্তিরা। ২০১১ সালের নির্দলীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতটিতে বিএনপি, তিনটি আওয়ামী লীগ ও একটি জাসদ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই সময় ইউপি নির্বাচনে রামু উপজেলা বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়।
নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কোন্দলকেই দায়ী করেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুই ভাই নেতৃত্বে আছেন। তাদের কোন্দলের কারণেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে খতিয়ে দেখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের জন্য কম জনপ্রিয় ও জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থী বেছে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মণ্ডল বলেন, 'সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের বিরোধিতার কারণে রামুতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে। দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষ না নিয়ে বরং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি। সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের অসযোগিতার কারণেই রামুতে প্রথম পর্যায়ের পাঁচ ইউনিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচিত হননি।'
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউনুচ রানা চৌধুরী বলেন, 'উপজেলা আওয়ামী লীগ নয়,

তৃণমূলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যারা প্রার্থী নির্বাচন করেছেন তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। একটি বিশেষ গোষ্ঠী বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।'
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ূয়া বলেন, 'সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ও উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের কারণে যেসব ত্যাগী নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের হয়ে এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তৃণমূলে ভোটাভুটির নাম দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন লোকজনকে মনোনয়ন দেওয়ার কারণেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে।'
সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, 'নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ যারা_ এমন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন লোকজনকে মনোনয়নের সুপারিশ করেছেন তারা। তারা নৌকা প্রতীক পেয়েছেনও। ভোটাররাই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের প্রার্থী নির্বাচন সঠিক হয়নি।' ২৮ মে নির্বাচনে ঈড়গড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে মোস্তাক আহাম্মদ, রশিদনগর ইউনিয়নে এমডি শাহ আলম নির্বাচিত হয়েছেন। গর্জনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
৪ জুন ষষ্ঠ দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরিদুল আলম ও চাকমারকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম সিকদার ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স নির্বাচিত হয়েছেন। রাজারকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী মুফিজুর রহমান, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে মো. ইউনুচ ভূট্টো বিজয়ী হয়েছেন। তারা দু'জনই বিদ্রোহী প্রার্থী। খুনিয়াপালং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ নির্বাচিত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন