শুধু পরীক্ষার ফল বা সনদের চিন্তা বাদ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী। তিনি গত বৃহস্পতিবার নগরীর জামালখান চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে নবীনদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রূপালী চৌধুরী।
চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইইউ ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। প্রকৌশলী রশিদ এ. চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটার অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম নুরুজ্জামান, ব্যবসায় অনুষদের অধ্যাপক ড. এম আইয়ূব ইসলাম, আইন অনুষদের সমন্বয়ক অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং লিবারেল আর্টস অনুষদের সমন্বয়ক অধ্যাপক কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ।
প্রধান অতিথি এফআইসিসিআইর সভাপতি রূপালী চৌধুরী তার বক্তৃতায় বলেন, 'প্রতিটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পণ্য এবং যন্ত্রাংশ প্রায় একই; কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদই একে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলে।
নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ছাত্রছাত্রীদের শুধু পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।
বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের ম্যানেজার নয়, লিডার হিসেবে দেখতে চাই। সিলেবাসের বাইরে সহ-কার্যক্রমের প্রতিও তাদের মনোনিবেশ করতে হবে।'
নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'চট্টগ্রামের একটি অখ্যাত স্কুল থেকে আমার পড়াশোনার যাত্রা শুরু হলেও আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ জন্য অবশ্য আমাকে ক্যারিয়ারের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে হয়েছে।' তাই তিনি ছাত্রছাত্রীদের হতাশ না হয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৯ সালে আইইউবির আউটার ক্যাম্পাস হিসেবে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করে।
২০১০ সালে আইনগত পরিবর্তনের কারণে আমরা সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করি এবং ২০১৩ সালে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা সরকার ও ইউজিসির অনুমোদন লাভ করি। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যার ট্রাস্টিরা এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ গ্রহণ করেন না। শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি শিগগিরই স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী নবীন ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরির কারখানা। তোমরা এখানে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরি নয়, ছাত্রছাত্রীরা যাতে বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে পারদর্শী হয়ে উঠে সে ব্যাপারে সচেষ্ট।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তৃতা করেন ব্যবসায় অনুষদের ছাত্র রিচার্ডসন, ইংরেজি বিভাগের জেরিন তাসনিম ও প্রকৌশল অনুষদের সামরিনা আলম। প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন প্রকৌশল অনুষদের ছাত্রী তাহসিনা মাহমুদ।

মন্তব্য করুন