একুশে পদক জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭      

ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য, খ্যাতিমান এই শিক্ষাবিদ একজন বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ। আইনশাস্ত্রেও তিনি ব্যারিস্টার। শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন। ১৯৩৭ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া

বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, আঞ্চলিক ইতিহাস, আইন, মানবাধিকার, মুসলিম সমাজ ও নারী বিষয়ে বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার শিক্ষাবিদ আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। গবেষণা করছেন তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর। এ পর্যন্ত পাঁচটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। এর মধ্যে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে। বিভিন্ন বিষয়ে তার রচিত অনেকগুলো বই আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছে। একুশে পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রামের এ খ্যাতিমান শিক্ষক বলেন, 'কাজের স্বীকৃতি পাওয়াতে আমি খুব সম্মানিত ও গর্বিত। এটি এমন এক পদক যার সাথে জড়িয়ে আছে একুশের মহান স্মৃতি। একুশ বাঙালির ইতিহাস, ভাষা এবং সংস্কৃতিরও প্রতীক।'
আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন ১৯৬৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। ১৯৬৭ সালে লিংকনস ইন থেকে নেন ব্যারিস্টার এট ল ডিগ্রি। ১৯৬০ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষায় কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। ১৯৭৮ সালে আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন ফ্যাকাল্টি অব আর্টসের ডিন নির্বাচিত হন।
১৯৮৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি হন। ১৯৮৯ সালে সিনেটে ৮১ ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়ে তিনি উপাচার্য নির্বাচিত হন। এ প্রসঙ্গে আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, 'আমার অধ্যাপনা ও গবেষণা জীবন ৫৫ বছরেরও অধিক কালের। এ সময়ে আমি জ্ঞান অনুসন্ধান ও আদান-প্রদানের প্রেরণায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। আমি শিক্ষা প্রশাসনেও বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। এ সময় শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে চেষ্টা করেছি।' দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি প্রফেসর ইমিরেটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৩ মে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব নেন। নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চলে যায় ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তিনি তাদের কাছে কখনোই নতি স্বীকার করেননি। পদত্যাগের দাবিতে তাকে তার ক্যাম্পাসের বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল জামায়াত-শিবির। বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল তার বাসভবনের বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগও। তবুও অন্যায়ের কাছে সাম্প্রদায়িকতার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি এই শিক্ষাবিদ। অনড় উপাচার্যকে শেষ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের দাবি মেনে নিয়ে ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর অপসারণ করে বিএনপি সরকার। নীতির প্রশ্নে এভাবেই দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন তিনি।
আইন শাস্ত্রে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করা ইতিহাসবিদ আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। একুশে পদক প্রাপ্তির কিছুদিন আগে বক্তব্য রেখেছিলেন চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) মিলনায়তনে বসন্তকালীন সেমিস্টারে আইন অনুষদে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দীন বলেন, 'জীবনের হাসি, কান্না, বেদনা হতে শুরু করে সবকিছুই আইনের অন্তর্ভুক্ত। একজন আইনজীবীকে সফল হতে হলে সবকিছু সম্বন্ধেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যে আইনজীবীর বিদ্যা-বুদ্ধি শুধু আইন অধ্যয়নেই সীমাবদ্ধ তাকে বিজ্ঞ বলা যায় না।'
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য নয়, জানার জন্য পড়তে হবে। কেননা, আইনে শর্টকাট কোনো বিষয় নেই, বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে, বোঝার চেষ্টা করতে হবে , তা না হলে কোর্টে গিয়ে বিপক্ষের আইনজীবীর হাতে নাজেহাল হতে হবে।'
আদর্শ আইনজীবীর গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আদর্শ আইনজীবী হতে হলে তাকে কৌশলী, বিচক্ষণ, গভীর জ্ঞানী এবং সর্বোপরি ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। একজন অযোগ্য আইনজীবীর সাথে একজন হাতুড়ে ডাক্তারের কোনো পার্থক্য নেই।'
অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, 'আইনজীবীদের সম্বন্ধে সমাজে এখনও খুব ভালো ধারণা প্রচলিত নেই। একজন নিকৃষ্ট ব্যবসায়ীকে হয়তো আপনি এড়িয়ে চলতে পারবেন কিন্তু বিচারক নিকৃষ্ট হলে তাকে এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়।' আইনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, আইন হচ্ছে সর্বোচ্চ যুক্তিবিদ্যা। তাই আইনের শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী হতে হবে, তাদের যুক্তিবাদী মন থাকতে হবে।
জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করা বরেণ্য এই শিক্ষাবিদের কাছে একুশে পদক তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তিনি বলেন, 'আমি একজন বাঙালি। বাংলা আমার মাতৃভাষা। আর এ ভাষার জন্যই জন্ম হয়েছে একুশের। আমি সেই একুশের পদক পাওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক পেয়ে গর্বিত আমি।' প্রসঙ্গত, এর আগে চট্টগ্রাম একাডেমি পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ।
আ.লীগের ইশতেহার ঘোষণা মঙ্গলবার

আ.লীগের ইশতেহার ঘোষণা মঙ্গলবার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অাগমী মঙ্গলবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ...

যে গ্রামে দরজা নেই কোন ঘরের

যে গ্রামে দরজা নেই কোন ঘরের

ঘরে জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা, গহনাগাটি নিরাপদ রাখতে মানুষ কত কিছুই না ...

আওয়ামী লীগে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই: নানক

আওয়ামী লীগে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই: নানক

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আওয়ামী ...

হোর্হে সাম্পাওলি সান্তোসের কোচ

হোর্হে সাম্পাওলি সান্তোসের কোচ

রাশিয়ার কাজান এরিনা কাঁদিয়ে ছেড়েছে হোর্হে সাম্পাওলিকে। তার কোচিং ক্যারিয়ারের ...

ড. কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন: আ’ লীগ

ড. কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন: আ’ লীগ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, জাতীয় ...

মাঠে শেষ দিন পর্যন্ত থাকবো: ফখরুল

মাঠে শেষ দিন পর্যন্ত থাকবো: ফখরুল

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উল্লেখ ...

'১৫-১৬ জনের বিশ্বকাপ দল তৈরি আছে'

'১৫-১৬ জনের বিশ্বকাপ দল তৈরি আছে'

কয়েক দিন ধরে বাতাসে একই গুঞ্জন। মাশরাফি কি মিরপুরে শেষ ...

ড. কামাল বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো আচরণ করছেন: কাদের

ড. কামাল বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো আচরণ করছেন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল ...