চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে মেয়র

অপরিকল্পিত উচ্চাভিলাষের কারণে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, 'আমাদের এই প্রিয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম প্রকৃতি প্রদত্ত নান্দনিক শহর। অপরিকল্পিত উচ্চাভিলাষের কারণে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার করা উচিত। এখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এর ভোগান্তির দায়ভার সিটি করপোরেশনের ওপর আসে কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের সময় কেউ আগে থেকে আলোচনা করেন না। কর্তৃত্ব না থাকলে তা তো কার্যকর করা যায় না। বিভিন্ন সেবা সংস্থা প্রকল্প নিচ্ছে এবং সেগুলো একনেকেও পাশ হচ্ছে। সিটি করপোরেশন বেটিং করার কথা থাকলেও কেউ করেন না।'

সমন্বয় ছাড়া কোনো উন্নয়নের সুফল মিলবে না উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, 'জনগণকে চরম ভোগান্তি দিয়ে উন্নয়ন টেকসই হবে না। অনেক প্রকল্প চট্টগ্রামে চলমান। বাস্তবায়ন হলে সুফল মিলবে কী? এসব প্রকল্পের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা হচ্ছে কী? এখনো সময় আছে।'

গত শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হলে 'নগর সাংবাদিকতা : বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা' শীর্ষক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন উদ্দাহারণ দিয়ে বলেন, 'যেমন আখতারুজামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভার একসময় ছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পরে আলোচনা-সমালোচনার মুখে র‌্যাম্প ও লুপ যোগ করা হলো। র‌্যাম্প-লুপ করতে গিয়ে নগরীর উত্তর-দক্ষিণমুখী একমাত্র সড়কটি এলোমেলো হয়ে গেলো। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার শুরুতে ওয়াই শেপ ছিল, কাটা হলো আবার যোগ করা হলো। ফ্লাইওভারের ওপর স্পিড ব্রেকার দেওয়া হলো। এটা পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। আবার সমস্ত দায়ভার সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন নিয়ে মানুষের চাওয়াটা যৌক্তিক কারণ জনগণ সিটি মেয়রকে ম্যান্ডেট দিয়েছন। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা স্বাভাবিক। '

সিটি মেয়র বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। সেটা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল ২০১৫ সালের মধ্যে। কিন্তু যে সিডিএ মাস্টারপ্ল্যান করেছে তারা কী তা বাস্তবায়ন করেছে? চান্দগাঁও মৌলভি পুকুর কে ক্রয় করে ভরাট করেছে? মাস্টারপ্ল্যানে তো জলাশয়গুলো খালি রাখার কথা ছিল। জলাভূমিতে তাহলে কী করে আবাসন প্রকল্প নেওয়া হলো। হালদা দূষণ হচ্ছে বাঁধের কারণে। বালি জমে এবং শিল্প বর্জ্য পড়ে হালদার আজ মরণ দশা।'

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'আপনারাই পারেন। আপনারা ত্রাণকর্তা। আপনারা যেটা নিয়ে সোচ্চার হন ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেটা সবাইকে মেনে নিতে হয়। চট্টগ্রামে চলমান সবগুলো প্রকল্প নিয়ে গভীরে গিয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ করুন।'

সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফার মৃত্যুর বিষয়টি 'অত্যন্ত দুঃখজনক' উল্লেখ করে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'আমি শুরু থেকেই বলেছি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে। অবহেলা, অবজ্ঞা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যু কি না তা দেখতে হবে। এখন দুটো তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে সেখানে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ঘটনার বিচার হলে পরবর্তী সময়ে অনেকে সুফল পাবে। ডাক্তাররাও চিন্তাভাবনা করে দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা করবেন। বিচার ও শাস্তি শেষ পর্যন্ত যেন বাস্তবায়ন হয়। আসুন সেই পর্যন্ত আমরা একসাথে থাকি।'

চিকিৎসক সমাজের সাথে সাংবাদিক সমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা হচ্ছে দাবি করে মেয়র বলেন, 'মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টির চেষ্টা উচিত হচ্ছে না। বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট। অনেকেই এর মধ্যে ঢুকে পড়তে চাইছেন। অহেতুক উত্তেজনা বা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।'

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী প্রমুখ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ম. শামসুল ইসলাম, আল রহমান, লতিফা আনসারী রুনা, মোরশেদ তালুকদার ও খোরশেদুল আলম শামীম। এসময় বিএফইউজের সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, সমাজসেবা ও আপ্যায়ণ সম্পাদক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লবের উদ্যোগে ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় গত ৩০ মার্চ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অংশ নেন মোরশেদ তালুকদার, জাহেদুল কবীর, মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন, রাহুল দাশ নয়ন, আরিফ রায়হান, দেবদুলাল ভৌমিক, আল রাহমান, মিঠুন চৌধুরী, তাসনিম হাসান, মো. শামসুল ইসলাম, নুপুর কান্তি দেব, মাকসুদ আহমদ, ফারুক মুনির, সালামত উল্লাহ, সাইদুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, তৈয়ব সুমন, খোরশেদুল আলম শামীম, শামীম হামিদ, চৌধুরী ফরিদ, লতিফা আনসারী রুনা, নাইমুল ইসলাম বাবু, তৌহিদুল আলম, নাজমুল সাদেকী, রনি দত্ত, অনুপম শীল, সরোয়ার আমিন বাবু, মৃন্ময় বিশ্বাস, হাবিবুর রব মাসুম, আমিনুল ইসলাম মুন্না, জুয়েল শীল, রনি দে, শ্যামল নন্দী, সুরঞ্জীত শীল, মো, শরীফুল হক চৌধুরী, আলাউদ্দীন হোসেন দুলাল, রাজেশ চক্রবর্তী।