চসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স

আদায়ে রেকর্ড হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

স্বপন কুমার মলিল্গক

হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। আদায় করেছে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ট্যাক্স। কিন্তু তবুও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। কারণ রেকর্ড গড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। সূত্রমতে, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৩৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়েছে। তবুও এই আদায় গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট চসিক। গৃহকর আদায়ের এ হারকে বড় অর্জন হিসেবেও উলেল্গখ করেছেন চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমকালকে বলেন, 'এবার হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। গত পাঁচ বছরের মধ্যেই এটিই সর্বোচ্চ। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ। আমি আশাবাদী বর্তমান অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আমরা অবশ্যই সক্ষম হবো।'

একই প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'ট্যাক্স আদায় নিয়ে আমরা এবার বেশ আন্তরিক ছিলাম। তাই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ও হয়েছে সন্তোষজনক। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় কিছুটা হতাশাও রয়েছে আমাদের মধ্যে। লক্ষ্যমাত্রা যেন শতভাগ অর্জিত হয় সে জন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমর্থ হবো।'

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ১১৮ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার ৩১৬ টাকা ৬৩ পয়সা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করেছে। নগরীর আটটি সার্কেলের এক লাখ ৫৭ হাজার ৬৬২টি হোল্ডিং থেকে এই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। কিন্তু গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ১৯০ টাকা। যদিও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুতে চসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ১২৪ টাকা।

পঞ্চবার্ষিকী গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন স্থানীয় সরকার কর্তৃক স্থগিত হওয়ায় গত ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৬৯ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৪ টাকা কমিয়েছে চসিক। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলেও এটিই গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এই  ধরনের ট্যাক্স আদায়ের দৃষ্টান্ত।

প্রসঙ্গত, এটা ছিল বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদের তৃতীয় অর্থবছর। এর আগে তার দ্বিতীয় বছর গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৫৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৪৭ কোটি ৬২ লাখ ১২ হাজার ৫৩ টাকা। আদায়কৃত অর্থ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে বর্তমান মেয়রের প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন ছিল ৩৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। ওই বছর ৩৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫২ টাকার বিপরীতে ১১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৭ পয়সা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়।